ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি: শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার চাপাঝোড়া সাহাতী ব্রিজের পাড় সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২০টি পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী আইয়ুব আলীর (পিতা: মৃত ভোলু মিয়া) বিরুদ্ধে এ রাস্তা বন্ধের অভিযোগ উঠেছে।
১৬ জুলাই ২০২৪ তারিখে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, নারী, শিশু এবং অসুস্থ রোগীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আইয়ুব আলী রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় অসহায় মানুষগুলো চলাচল করতে পারছে না। কেউ চলাচলের চেষ্টা করলে বিভিন্নভাবে বাধা দিচ্ছেন। এমনকি রাস্তার আশপাশে গেলেও প্রভাবশালী ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক এবং উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, এই পথটি না খুললে দিলে কমপক্ষে ২০টি পরিবারের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে। রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় ওইসব মানুষের প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। অনেকেই বাধ্য হয়ে দীর্ঘ এবং দুর্গম বিকল্প পথ ব্যবহার করছে। সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে না পেরে লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে শিক্ষার্থীরা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন অসুস্থ রোগী এবং বয়স্ক ব্যক্তিরা। জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো বিকল্প রাস্তা না থাকায় কর্দমাক্ত মাঠ এবং ক্ষেতের আইল হয়ে দুর্গম বিকল্প পথ ব্যবহার করে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে হচ্ছে। এতে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় এলাকাবাসীর হাট-বাজারে যাওয়া, কৃষিকাজে অংশ নেওয়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়-বিক্রয় এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং বহুদিনের ব্যবহৃত একমাত্র চলাচলের রাস্তাটি দ্রুত উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। যাতে এলাকাবাসী স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে এবং তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটে। এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
