মাঠের ঘূর্ণি বল দিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের পরাস্ত করা যার নিত্যদিনের কাজ, মাঠের বাইরে সেই আদিল রশিদের অকৃত্রিম চরিত্র জয় করে নিলো আস্ত একটি পরিবারের হৃদয়। ইংল্যান্ডের খ্যাতনামা এই স্পিনারের বিনয়, সরলতা ও ব্যক্তিগত আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সম্প্রতি ইসলাম গ্রহণ করেছেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু গ্যারি, গ্যারির স্ত্রী এবং তাদের ছেলে। প্রচারমাধ্যমের কোলাহল আর গ্ল্যামারের এই যুগে একজন ক্রীড়াবিদের ব্যক্তিগত জীবনের সুমহান চরিত্র কীভাবে মানুষের হৃদয় পরিবর্তন করতে পারে, এটি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে গাড়ির শোরুমের মালিক গ্যারি দীর্ঘদিন ধরেই আদিল রশিদের আচার-ব্যবহার কাছ থেকে দেখে আসছেন। বন্ধুর ইসলামিক জীবনযাপন তাকে ইসলামের প্রতি কৌতুহলী করে তোলে। গ্যারির আগ্রহ দেখে আদিল রশিদ তাকে কোনো চাপ না দিয়ে উপহার দেন ইংরেজি অনুবাদসহ পবিত্র কোরআন এবং ইসলামবিষয়ক কিছু বই। প্রায় চার মাসের গভীর অধ্যয়নে ইসলামের মূল বার্তা উপলব্ধি করতে পারেন গ্যারি। সত্যের অনুসন্ধান এবং আদিল রশিদের মার্জিত ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে পুরো পরিবারসহ তিনি ইসলাম গ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। পরে স্থানীয় এক মসজিদে ইমামের উপস্থিতিতে শাহাদাহ পাঠ করে এই পরিবার। ইসলাম গ্রহণের পর গ্যারির নতুন নাম রাখা হয় ‘মুহাম্মদ বিলাল’ এবং তার ছেলের নাম রাখা হয় ‘মুহাম্মদ জুবায়ের’। বর্তমান বিশ্বে যেখানে ইসলামের সঠিক বার্তা পৌঁছানো এক বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে আদিল রশিদ প্রমাণ করলেন—মুখের কথার চেয়ে মানুষের আচরণই দাওয়াহর সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সমাজের বুকে নিজের সুন্দর ব্যক্তিত্ব ছড়িয়ে দিয়ে কীভাবে অন্যের জীবনকে আলোকিত করা যায়, আদিল রশিদ তা স্পষ্ট করে দেখিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনাটি ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা বলছেন, প্রচারণার চেয়েও যে ব্যক্তিগত চরিত্র ও পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শন একজন মানুষকে চিরতরে বদলে দিতে পারে, বার্মিংহামের এই পরিবারটির গল্প সেটাই নতুন করে মনে করিয়ে দিল। জা অর্থনীতি/ ওএফএ