চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট: রান্না বন্ধ, দীর্ঘ লাইন সিএনজি স্টেশনে
ছবি: মোহাম্মদ নুরুল আলম চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। আবাসিক এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার রান্না করতে না পেরে বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। একই সঙ্গে শিল্পকারখানা, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সিএনজি স্টেশনেও সংকটের প্রভাব পড়েছে।

রোববার (০২ আগস্ট) নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গ্যাসচালিত যানবাহনের দীর্ঘ সারি সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে। কদমতলীর ফোর স্টার সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন, বাকলিয়ার কর্ণফুলী ফিলিং স্টেশন, মইজ্জারটেকের শাহ আমানত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড এবং কামাল ব্রাদার্স সিএনজি স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন চালকেরা।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা জানান, গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে চট্টগ্রামে।

image

সংকটের কারণে আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অনেক এলাকায় গ্যাসের দেখা মিলছে না। কোথাও আবার গভীর রাতে অল্প চাপের গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

নগরের জামালখান লেনের বাসিন্দা নন্দীতা রানি বলেন, "কয়েকদিন ধরে সকাল থেকেই গ্যাস থাকছে না। রোববার সকাল ৭টায় গ্যাস চলে গেছে। সন্ধ্যার পরও চাপ খুব কম থাকে। রাত ১২টার দিকে টিমটিম করে জ্বলে।"

আসকার দিঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা কামরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, "সকালে গ্যাস আসে খুব কম। বাসার সবার জন্য রান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্যাস থেকেও নেই। বাধ্য হয়ে নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সিলিন্ডার গ্যাস কিনে এনেছি।"

আগ্রাবাদ, হালিশহর, পতেঙ্গা, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, বাকলিয়া, চকবাজার, বহদ্দারহাট, অক্সিজেন ও ষোলশহরসহ নগরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারাও একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন।

আবাসিক খাতের পাশাপাশি শিল্পকারখানা ও ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনেও গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সিএনজি স্টেশনগুলোতে।

মইজ্জারটেক এলাকার শাহ আমানত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের সামনে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছিলেন চট্টগ্রাম-বদরখালী রুটের সিএনজি অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ মিনহাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, "আগে ১০ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে গ্যাস পেতাম। কয়েকদিন ধরে গ্যাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। আজ সেই কষ্ট দ্বিগুণ বেড়েছে। দুই ঘণ্টা ধরে রোদে দাঁড়িয়ে আছি। কখন গ্যাস পাব ঠিক নেই। সন্ধ্যা ৬টার পর আবার গ্যাস বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে।"

কেজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিস্ট্রিবিউশন) রফিক খান বলেন, "গত ১০ দিন ধরেই সংকট চলছে। তবে ছুটির দিনে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য আরও খারাপ হওয়ায় পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। শনিবার রাত থেকে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামের প্রায় সব এলাকাই সংকটে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

—জা.অর্থনীতি/আইবিএম