ছেলেকে হারিয়ে অন্ধকার জীবনে শহীদ মিরাজের মা
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:  “আশা ছিল টাকা-পয়সা রোজগার করে অসুস্থ বাবা-মাকে ভালো ডাক্তার দেখাবে, ছোট ভাই দুটোকে লেখাপড়া শিখিয়ে বড় করবে। কিন্তু আমার সব স্বপ্ন তো গুলিতেই শেষ হয়ে গেল। কতো মানুষ ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরে, আমার মিরাজ তো আর ফেরে না।”—বুকের মানিককে হারিয়ে এভাবেই আকুল হয়ে কাঁদছিলেন শহীদ মিরাজুল ইসলাম মিরাজের (২১) মা মোহসেনা বেগম।

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে গুলিতে মারাত্মক আহত হন মিরাজ। চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ৮ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন দূরন্ত ও স্বপ্নবাজ এই তরুণ।

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বারঘড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুস সালাম ও মহসেনা বেগম দম্পতির বড় ছেলে মিরাজ। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারানোর শোক সইতে না পেরে কিছুদিন পর মারা যান মিরাজের বাবাও। ফলে মিরাজের মা মোহসেনা বেগম এখন দুই ছোট ছেলেকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

দনিয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মিরাজ পরিবারের অভাব মেটাতে পড়ার পাশাপাশি ঢাকার মাতুয়াইলে একটি মোবাইল রিচার্জ ও বিকাশের দোকানে চাকরি করতেন। সংসারের একমাত্র চাকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি এখন পুরোপুরি বিপদে। যদিও পরবর্তীতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও সরকারের পক্ষ থেকে কিছু অনুদান দেওয়া হয়েছে, তবে স্থায়ী জীবিকার অভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না তারা।

মিরাজের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “টাকা দিয়ে তো কলিজার টুকরাকে পাব না। তবে যে খুনিরা আমার ছেলের বুক ঝাঁজরা করেছে, বর্তমান সরকারের কাছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। আর আমাদের পরিবারটা যেন টিকে থাকতে পারে, সে জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট দৃষ্টি কামনা করছি।”

এ বিষয়ে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস জানান, জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত পরিবারগুলোর বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে। সরকারি যেকোনো সুযোগ-সুবিধা ও মানবিক সহযোগিতা তাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি