ইবিতে মাকে লেখা শহীদ আনাসের চিঠির ফলক উন্মোচন
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

ইবি প্রতিনিধি: জুলাই ৩৬ গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’-এর দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের মাকে লেখা চিঠির স্মৃতিফলক উন্মোচন এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান ফলকটি উন্মোচন করেন। এ সময় শহীদ আনাসের বাবা শাহরিয়ার খান পলাশ ও নানা সাইদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ'সহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

ইবিতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা

শাহরিয়ার খান পলাশ বলেন, আনাস আমার বড় ছেলে। আনাসকে নিয়ে আমাদের স্বপ্ন ছিল। বড় হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবে। আমরা ভাবতেই পারিনি এমন ঘটনা ঘটবে। আপনাদের কাছে অনুরোধ যদি সম্ভব হয় প্রতিবছর আনাস, ইয়ামিন'সহ অন্যান্য শহীদের জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, এটি শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এর মধ্য দিয়ে এই হলে যারা শিক্ষার্থী তারা চিঠিটি পড়ে জানতে পারবে আনাস দেশপ্রেমিক একজন নাগরিক হিসেবে নিজেকে কীভাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিল। দশম শ্রেণিতে পড়া আনাসের দেশপ্রেমের যে চিহ্ন আমরা চিঠিতে দেখলাম, তা আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যতদিন দায়িত্বে থাকবে, ততদিন ৩৬ জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে এই কর্মসূচিগুলো গুরুত্বের সাথে পরিচালনা করবে। আল্লাহ সকল শহীদদের কবুল করুক এবং পঙ্গুত্ব বরণকারীদের দ্রুত সুস্থতা দান করুক।"

ইবির প্রধান ফটকের গ্রাফিতি আজও জুলাইয়ের স্মৃতি বেড়াচ্ছে

আনাসের চিঠিতে লেখাছিল: মা, আমি মিছিলে যাচ্ছি। আমি নিজেকে আর আটকিয়ে রাখতে পারলাম না। সরি আব্বুজান। তোমার কথা অমান্য কোরে বের হোলাম। স্বার্থপরের মতো ঘরে বোসে থাকতে পারলাম না। আমাদের ভাই রা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কাফনের কাপড় সাথায় বেধে রাজপথে নেমে সংগ্রাম কোরে যাচ্ছে। অকাতরে নিজেদের জীবন বিষর্জন দিচ্ছে। একটি প্রতিবন্ধি কিশোর, ৭ বছরের বাচ্চা, ল্যাংরা মানুষ যদি সংগ্রামে নামতে পারে, তাহলে আমি কেনো বোসে থাকবো ঘড়ে। একদিন তো মরতে হবেই। ভাই মৃত্যুর ভয় কোরে স্বার্থপরের মতো ঘরে গেসে না থেকে সংগ্রামে নেমে গুলি খেয়ে বীরের মতো মৃত্যুও অধিক শ্রেষ্ঠ। যে অন্যের জন্য নিজের জীবনকে বিলিয়ে দেয় সেই প্রকৃত মানুষ। আমি যদি বেচে না ফিরি তবে কষ্ট না পেয়ে গর্বিত হয়ো। জীবনের প্রতিটি ভুলের জন্য ক্ষমা চাই।"

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ইবি ছাত্রশিবিরের গণমিছিল

উল্লেখ্য, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্লে থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘বুলেটের সামনে আমাদের আবু সাঈদ’, পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘পানি লাগবে, পানি, পানি’ এবং অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘জুলাই বিপ্লবে পুলিশের নৃশংসতা’ শীর্ষক তিনটি পৃথক বিভাগ নির্ধারণ করা হয়। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগে অংশ নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি