সিলেটের সড়কের বেহাল দশা, জনজীবন ত্রিমুখী দুর্ভোগে
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

সিলেট প্রতিনিধি: ভাঙা সড়ক, কচ্ছপগতির উন্নয়ন কাজ এবং অচল করে দেওয়া যানজট এই তিন সংকটে হাঁসফাঁস অবস্থা সিলেট নগরবাসীর। সময়মতো সড়ক সংস্কার না হওয়া এবং সমন্বয়হীন খোড়াখুড়ির কারণে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও রোগীবাহী গাড়ি। দ্রুত এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে কার্যকর পদক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সিলেট নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল কদমতলীর সামনের প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কদমতলী পয়েন্ট পর্যন্ত দুই লেনের সড়কের অনেক অংশ থেকে পিচ উঠে গেছে। প্রতিদিন শত শত বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করলেও ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হচ্ছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।

একই চিত্র দেখা যায় নগরীর বন্দরবাজার-মিরাবাজার-টিলাগড়-মেজরটিলা সড়কে। বন্দরবাজারের হকার্স পয়েন্ট থেকে শিশুপার্ক পর্যন্ত অংশে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও ভাঙাচোরা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার সড়কও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে।

এরই মধ্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হুমায়ুন রশিদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজ চলায় গত দুই মাস ধরে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। সড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল করায় প্রায় প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী মানুষকে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।

দক্ষিণ সুরমায় অসহনীয় যানজট নিরসন ও বেহাল সড়ক সংস্কারের দাবিতে ২১ জুলাই সিলেটের জেলা প্রশাসক  আব্দুল্লাহ আল মামুন বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করে দক্ষিণ সুরমা ফাউন্ডেশন। স্মারকলিপিতে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও বাইপাস এলাকার জরাজীর্ণ ও বেহাল সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবিসহ যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং অবৈধ গাড়ি পার্কিং ও স্ট্যান্ড অপসারণের দাবি জানানো হয়। 

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন-এর পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস  দেওয়া হলে ও কার্যত কোন পদক্ষেপ এখনো চোখে পড়েনি। 

অপরদিকে সিলেট-তামাবিল সড়কে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ফয়েজ আহমদ বলেন, নগরীর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়কেই কোথাও না কোথাও গর্ত রয়েছে। ভাঙা অংশে ধীরে চলতে হয় বলে যানজট তৈরি হয় এবং যাত্রীদের দুর্ভোগও বাড়ে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর জানান, ২০২২ সালে সিটির আয়তন বাড়ার পর সড়কের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটারে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোর অধিকাংশ সড়ক ও ড্রেন সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। বর্ষা শেষে পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারের কাজ শুরু হবে।

অন্যদিকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন জানান, হুমায়ুন রশিদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পর্যন্ত আরসিসি সড়কের কাজ চলছে। এছাড়া চন্ডিপুল থেকে লালাবাজার পর্যন্ত সড়কের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে এবং বন্দরবাজার এলাকার সড়কটি আরও টেকসই করতে পিচের পরিবর্তে আরসিসি ঢালাইয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার এবং চলমান উন্নয়নকাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে নগরবাসীর প্রত্যাশা, নির্দেশের বাস্তবায়ন দ্রুত না হলে ভাঙা সড়ক, নির্মাণকাজ ও যানজটের এই ত্রিমুখী দুর্ভোগ থেকে সহজে মুক্তি মিলবে না।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি