আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত  সিলেটের কৃষকরা

শফিক আহমদ শফি, সিলেট: আগাম জাতের শীতকালীন সবজি চাষ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সিলেটের কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতেই সবজি বাজারজাত করে অধিক লাভের আশায় তারা আগে-ভাগে চাষাবাদ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। মৌসুমের তুলনায় আগাম সবজির চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় লাভের আশা করছেন কৃষকরা।

সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩টি উপজেলায় ৩৮ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) দেবল সরকার বলেন, সিলেটের সব উপজেলাতেই বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়। চলতি বছর কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে আগ্রহী হয়েছেন। সাধারণত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে শীতকালীন সবজি বাজারে আসে। এ সময় সরবরাহ বেশি থাকায় অনেক ক্ষেত্রে কৃষকরা ন্যায্য দাম পান না। তবে মৌসুমের শুরুতে সবজির চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি থাকে।

তিনি বলেন, এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কৃষকরা সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই উঁচু জমি প্রস্তুত করে সবজি চাষ শুরু করেছেন। কেউ জমি তৈরি করছেন, কেউ চারা রোপণ করছেন, আবার কেউ ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত। এবার টমেটো চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি জেলার দক্ষিণ সুরমা, সদর ও বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন সবজি ক্ষেত ঘুরে কৃষকদের ব্যস্ততার চিত্র দেখা গেছে। সদর উপজেলার ইনাতাবাদ গ্রামের কৃষক ফোটন মিয়া বলেন, চলতি বছর ৫০ শতক জমিতে তিন ভাগে আগাম জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন ও টমেটো চাষ করেছেন তিনি। আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু করা চাষের গাছগুলো ইতোমধ্যে বেড়ে উঠেছে। অসময়ে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা এড়াতে ক্ষেতে তিন ফুট পরপর নালা তৈরি করেছেন। এতে বৃষ্টির পানি সহজেই বেরিয়ে যাচ্ছে এবং ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা কমেছে।

ফোটন মিয়া বলেন, সবজির ক্ষতি এড়াতে নিয়মিত পরিচর্যা করছেন। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আগাম জাতের টমেটো ও মুলা বাজারে তোলার আশা করছেন তিনি। কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময়ে সবজি বিক্রি করতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা তার।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মন্দিরখলা গ্রামের কৃষক সৈয়দুর রহমান বলেন, কয়েক বছর ধরে তারা কয়েকজন কৃষক আগাম জাতের শীতকালীন সবজি চাষ করছেন। আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে তারা লাভবান হয়েছেন। এতে পরিশ্রম ও উৎপাদন খরচও কমেছে। এবারও কয়েক ধরনের সবজি চাষ করেছেন তারা। মৌসুমের আগেই এসব সবজি বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গৌতম পাল বলেন, আগাম জাতের সবজি চাষ লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক এ পদ্ধতি অনুসরণ করছেন। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সিলেটে উৎপাদিত সবজি বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও রোগবালাই দমনে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেবল সরকার বলেন, আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে সিলেটের কৃষকরা সবজিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদনে এগিয়ে যাচ্ছেন। চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।