থানা হেফাজতে প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণ, ৭৮ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গাজিয়াবাদ থানা প্রাঙ্গণে রোববার একজন এএসআই কর্তৃক এক মানসিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর মঙ্গলবার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও)-সহ ওই থানার সকল পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে পুলিশের অপরাধ তদন্ত শাখার ওই এএসআইকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কোনো ধর্ষণের ঘটনায় এই প্রথম এত বড় আকারের বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

মেয়েটির ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার জন্য যে ৭৮ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে স্টেশন হাউস অফিসার এবং তদন্ত শাখার ইনচার্জও আছেন।

পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোরের ডিআইজি (অপারেশনস) ফয়সাল কামরান বলেন, গাজিয়াবাদ পুলিশ ভবনের ওপরের তলার একটি ঘরে এক এএসআই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি বলেন, মেয়েটি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সেই নির্দিষ্ট ঘরটি শনাক্ত করেছে যেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। থানার সমস্ত (৭৮) পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কারণ পুলিশের নিয়ম অনুযায়ী, সেখানে কর্মরত প্রত্যেকেই নিজ কর্মস্থলের আওতাধীন এলাকায় যেকোনো ধরনের আইন লঙ্ঘনের ওপর নজর রাখার জন্য দায়ী ছিলেন।

ফয়সাল কামরান বলেন, আমি দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, নারী পুলিশ সদস্য না থাকা সত্ত্বেও এএসআই কেন একটি মেয়েকে থানায় নিয়ে এসেছিলেন, তা তাদের মধ্যে কেউই খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি।

৭৮ জন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়ে একটি দাপ্তরিক নথি গণমাধ্যমের হাতে এসেছে। এ ছাড়া, ধর্ষণের একটি এফআইআরের অনুলিপি পাওয়া গেছে। সেটি গাজিয়াবাদ থানায় পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারা (ধর্ষণের শাস্তি) এবং পুলিশ আদেশ, ২০০২-এর ১৫৫-সি ধারায় নথিভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে পুলিশ কর্মকর্তার অসদাচরণের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।

এফআইআরে অভিযোগকারী অর্থাৎ মেয়েটির বাবার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, তার প্রায় ২০ বছর বয়সী মেয়ে রোববার বিকেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় এবং দীর্ঘক্ষণ ফেরেনি। তিনি বলেন, খোঁজাখুঁজির সময় এক ব্যক্তি তাকে জানান, সাদা পোশাকে থাকা এক পুলিশ তার মেয়েকে একটি মোটরসাইকেলে করে নিয়ে গেছে।

অভিযোগকারী পুলিশকে বলেন, এরপর আমরা রাত ৯টার দিকে দ্রুত গাজিয়াবাদ থানায় ছুটে যাই। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর সাথে সাথেই আমার ভাই ফোন করে জানায় যে আমার মেয়ে বাড়ি ফিরে এসেছে। তিনি আরও জানান, তিনি যখন বাড়ি পৌঁছান, তখন তার মেয়ে কাঁদছিল।

একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ডিআইজি (তদন্ত) জিশান রাজা প্রথমে ঘটনাটি আমলে নেন এবং অভিযুক্ত এএসআইকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। সূত্র: ডন।

—জা.অর্থনীতি/আইবিএম