২০৭০ সালের মধ্যে বৃহত্তম ধর্ম হওয়ার পথে ইসলাম: নেপথ্যের মূল কারণগুলো কী?
ছবি: সংগৃহীত

২০৭০ সালের মধ্যে ইসলাম বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মে পরিণত হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রবণতার পেছনে একটি লক্ষণীয় দিক হলো—আজকের জেন-জি ও জেন আলফা প্রজন্ম ইসলামকে গ্রহণ করছে অন্ধ বিশ্বাস থেকে নয়, বরং প্রশ্ন তুলে, যুক্তি খুঁজে ও সত্যের অনুসন্ধান করে। তারা কেবল নিজেদের চেনাজানা গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; নিউ ইয়র্ক, রোম কিংবা টোকিওর মতো বৈশ্বিক শহরগুলোতেও ইসলামের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখে তারা।

অনেকেই যারা পরবর্তী জীবনে ইসলামে ফিরে এসেছেন (রিভার্ট), তারা বলেন—শৈশবেই কুরআন তাদের গভীরভাবে মুগ্ধ করেছিল। মাত্র তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করার ক্ষমতা আজও অনেকের কাছে বিস্ময়ের বিষয়। কুরআনের নির্ভুলতার একটি উদাহরণ হিসেবে প্রায়ই সুরা আন-নামলের কথা উল্লেখ করা হয়, যেখানে আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কারের বহু শতাব্দী আগেই পিঁপড়াকে স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে সঠিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

শিশুদের চরিত্র গঠনে ইসলামের শিক্ষা এক বিশেষ ভূমিকা রাখে। এটি তাদের শেখায় স্বার্থপরতা ছেড়ে অন্যের প্রতি যত্নশীল ও উদার হতে। রমজান মাস তাদের মধ্যে গড়ে তোলে ত্যাগ ও সহমর্মিতার মানসিকতা। পরিবারের অভ্যন্তরে মায়েরা সন্তানদের সহানুভূতির শিক্ষা দেন, আর বাবারা তাদের প্রস্তুত করেন দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় জগতের সাফল্যের জন্য।

এই নতুন প্রজন্মের গড়ে ওঠার পেছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে রাসুল (সা.)-এর জীবনাদর্শ। তিনি শিশুদের প্রতি ছিলেন অসীম স্নেহশীল—তাদের চুমু খেতেন, আদর করতেন এবং এতিমদের আশ্রয় দিতেন। তাঁর সাহাবি আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর মতো ব্যক্তিত্ব, কিংবা পরবর্তী সময়ে সুলতান মেহমেদ ও সাইদ নূরসীর মতো মনীষীরা আজও এই প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন।

বর্তমান সময়ে যখন শিশুদের মনোযোগ স্ক্রিনের জগতে আটকে ফেলার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে, তখন কুরআনের আলো তাদের চিন্তার জগৎকে আরও প্রসারিত ও উজ্জ্বল করে তোলে। তাওহীদের শিক্ষা তাদের মধ্যে গড়ে তোলে মানসিক স্থিতিশীলতা—যা উদ্বেগ ও বিষণ্নতার বিরুদ্ধে একধরনের ভরসার জায়গা হয়ে ওঠে। ফলে তারা শুধু অর্থ বা ক্ষমতার পেছনে না ছুটে, জীবনের গভীরতর অর্থ খুঁজে নিতে শেখে।

কুরআনের আলো আর বিশ্বাসের শক্তিতে বলীয়ান এই প্রজন্ম বস্তুবাদী জীবনদর্শনের বিপরীতে দাঁড়িয়ে নিজেদের এক নতুন পরিচয় গড়ে তুলছে—আর তাদের বিশ্বাস, একদিন এই আলো ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বজুড়ে।

জা.অর্থনীতি/ ওএফএ