২৬ বছর পর খাগড়াছড়িতে জামায়াতের নেতৃত্বে পরিবর্তন
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে এসেছে বড় পরিবর্তন। দীর্ঘ ২৬ বছর পর জেলা আমিরের দায়িত্ব থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব ছেড়েছেন অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল মোমেন। তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে নতুন জেলা আমির নির্বাচিত হয়েছেন মিনহাজুর রহমান। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর দলটির জেলা নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠিত হলো।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা শাখার ২০২৭-২০২৮ সেশনের নবনির্বাচিত জেলা আমির হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মিনহাজুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান। তার উপস্থিতিতে নবনির্বাচিত জেলা আমির শপথ গ্রহণ করেন।

এর আগে মিনহাজুর রহমান খাগড়াছড়ি জেলা জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় এবার তাকে জেলা আমিরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের চট্টগ্রাম অঞ্চল টিমের সদস্য মো. আমিরুজ্জামান এবং বিদায়ী জেলা আমির অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল মোমেনসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

এ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ রুকন সম্মেলনে সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলা মজলিশে শুরার সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে নির্বাচিত সদস্যদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে আগামী ২ বছরের জন্য খাগড়াছড়ি জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

নবনির্বাচিত জেলা আমির মিনহাজুর রহমান খাগড়াছড়ি পৌরসভার অপর্ণা চৌধুরীপাড়া (রূপনগর) এলাকার বাসিন্দা আলী আহমেদের ছেলে। পেশাগত জীবনে তিনি পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি ইংরেজিতে এমএ এবং এমএড ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া তিনি ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ, খাগড়াছড়ি জেলার সাধারণ সম্পাদক এবং ওয়ামী, খাগড়াছড়ি জেলার জেলা কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি হিসেবেও তার দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর খাগড়াছড়িকে সব জাতি-ধর্ম ও মতের মানুষের জন্য সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মিনহাজুর রহমান।

তিনি বলেন, খাগড়াছড়িতে বসবাসরত সকল জাতি-ধর্ম, দল-মত নির্বিশেষে সকলের প্রতি আমাদের আহ্বান সততা, ন্যায় এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে নিজে ভূমিকা রাখুন, আমাদের সহযোগিতা করুন। খাগড়াছড়িতে বসবাসরত সকল নাগরিকের সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমরা ঐক্যবদ্ধ।

দুর্নীতি, অনিয়ম, চাঁদাবাজি, ঘুষ ও টেন্ডার বাণিজ্যের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘সকল প্রকার দুর্নীতি, অনিয়ম, চাঁদাবাজি, ঘুষ, টেন্ডার বাণিজ্যের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। এই ক্ষেত্রে কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করলে আমরা ছাড় দেব না।

নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও দক্ষতাকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে যোগ্যতা এবং দক্ষতা হবে সকল প্রকার নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের মাপকাঠি, কোনো বিশেষ পরিচয় নয়।’

পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির বিষয়ে নতুন জেলা আমির বলেন, বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জাতি, ধর্ম ও বর্ণকে মুখ্য বিবেচনা করা হবে না। পাহাড়ি-বাঙালি বিভেদ ও বৈষম্যের পরিবর্তে তিনি ঐক্যবদ্ধ ও সম্প্রীতির খাগড়াছড়ি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বক্তারা দায়িত্বশীলদের ওপর অর্পিত আমানত যথাযথভাবে পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, পারস্পরিক পরামর্শ, ঐক্য এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দীর্ঘ ২৬ বছর একই ব্যক্তির নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়ার পর খাগড়াছড়ি জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে এই পরিবর্তন দলটির সাংগঠনিক রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। নবনির্বাচিত জেলা আমির মিনহাজুর রহমানের নেতৃত্বে আগামী ২০২৭-২০২৮ সেশনে সংগঠনটি আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।

তবে নতুন নেতৃত্বের সামনে সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি, নাগরিক অধিকার, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেদের ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জও থাকবে।

—জা.অর্থনীতি/এনজে