পতনের ধারা অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দেশের শেয়ারবাজারে গতকাল মঙ্গলবার টানা পঞ্চম কার্যদিবসেও বিক্রির চাপ অব্যাহত ছিল। গতকাল দিনের লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৪০ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৭৭৩ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে নেমে আসে। একই সঙ্গে ডিএসই-৩০ সূচক ১১ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং শরিয়াভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস ৭ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে যথাক্রমে ২ হাজার ১৬৪ দশমিক ৪৭ এবং ১ হাজার ১৫০ দশমিক ২১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

বাজারে দরপতনের ব্যাপ্তিও ছিল বড়। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৭টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ২৬৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৭টির। অর্থাৎ লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রায় ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাতটিরই দর কমেছে।

দরপতনের সঙ্গে আগের দিনের চেয়ে লেনদেনেও কিছুটা মন্থরতা দেখা গেছে। দিন শেষে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৯৯৮ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ১ হাজার ৩৬ কোটি ৪০ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কম। এ দিন মোট লেনদেন হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৮৩টি এবং শেয়ার লেনদেন হয়েছে প্রায় ৩১ কোটি ৯৯ লাখটি। বাজার মূলধনও প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৭ লাখ ২ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা হয়েছে।

খাতভিত্তিক লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল বস্ত্র খাতের। এ খাতে প্রায় ২০১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ২১ দশমিক ১ শতাংশ। এরপর সাধারণ বিমা খাতে প্রায় ১৩৭ কোটি ৭ লাখ টাকা বা ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং প্রকৌশল খাতে প্রায় ১১৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বা ১১ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেন হয়েছে।

ব্যাংক খাতে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৮২ কোটি ৭১ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৮৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বা ৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

তবে বেশি লেনদেন হওয়া খাতগুলোর বেশির ভাগই দরপতন থেকে রেহাই পায়নি। বস্ত্র খাতের দর কমেছে শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ, সাধারণ বিমা খাতের ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং প্রকৌশল খাতের শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ।

খাতভিত্তিক দরপতনে সবচেয়ে বেশি চাপ ছিল সাধারণ বিমায়। এ খাতের দর কমেছে ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ। এরপর ট্যানারি খাত ৩ শতাংশ এবং সিরামিক খাত ১ দশমিক ২৪ শতাংশ কমেছে। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের দর কমেছে শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ, টেলিযোগাযোগ শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং ব্যাংক খাত শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ। তবে সব খাতই নেতিবাচক ছিল না। মিউচুয়াল ফান্ড খাতের সূচক শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ বেড়েছে।

বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোর মধ্যেও অধিকাংশ খাতে দর কমেছে। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের দরপতন ছিল শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ। টেলিযোগাযোগ খাত কমেছে শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ, প্রকৌশল ও ব্যাংক খাত উভয়ই শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে কিছু কোম্পানিতে ছিল উল্লেখযোগ্য ক্রয়চাপ। দিনের শীর্ষ দরবৃদ্ধির তালিকায় টাং হাই নিটিং ও এনভয় টেক্সটাইলসের শেয়ারদর উভয়ই ১০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া সামরিতা হাসপাতাল ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নুরানি ডাইং ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।

দরপতনের শীর্ষে ছিল শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। এরপর পিএলএফএসএল ৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং প্রিমিয়ার লিজিং ও ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং প্রোডাক্টস ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করে কমেছে।

দিনের সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া কোম্পানির তালিকায় শীর্ষে ছিল ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং প্রডাক্টস। কোম্পানিটির প্রায় ৫২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। তবে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষে থাকলেও কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

এরপর আইপিডিসি ফাইন্যান্সের প্রায় ৫১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং এনভয় টেক্সটাইলের প্রায় ২৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের দর ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং এনভয় টেক্সটাইলের দর ১০ শতাংশ বেড়েছে।

দিনের মোট লেনদেনে ব্লক মার্কেটের অংশ ছিল মাত্র ২ দশমিক ৬ শতাংশ। ব্লক মার্কেটে গ্রামীণফোন, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং প্রডাক্টস, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, একমি পিএলসি ও ম্যারিকোসহ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। 

দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্র দেখা গেছে। গতকাল সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১১০ পয়েন্ট কমেছে। এদিন সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭১টির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ১৩৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩০টির। সিএসইতে মোট ৭৩ কোটি ২২ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১০৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা।