রংপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা, আটক ২
ছবি: সংগৃহীত

রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে ২ যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। 

রোববার (২৩ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত তাদের আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। আটক ২ জনই মাছুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর ভবনটিতে বসে আটকরা ইয়াবা সেবন করেছিল—এমন আলামতও পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান টের পেয়ে তাদের একজন পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে পড়েন। পরে তুতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান থেকে তাকে আটক করা হয়।

আরও পড়ুন: সাংবাদিক দেবাশীষসহ পরিবারের ৪ সদস্যের সৎকার ও দাফন

সূত্রের দাবি, স্থানীয় কয়েকজন যুবক ডাকাতির উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে ঢুকে ৪ জনকে হত্যা করেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আটকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এ ঘটনায় আজ দুপুরে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।

এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বাড়ির ভেতর থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে দোতলা বাড়ির ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তী, সিঁড়ি থেকে তার স্ত্রী ও মেয়ের এবং শোবার ঘরে খাটের নিচ থেকে ছেলে প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ভোর ৪টার দিকে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন: রংপুরে একই পরিবারের ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুই থেকে তিন দিন আগে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে। পাশাপাশি টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলো ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে ডাকাতির বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সামনে এলেও হত্যার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। মহানগর পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ ও র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা তদন্তে কাজ করছে।

রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা ঘটনাটি তদন্ত করছে। প্রাথমিকভাবে তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বাড়িঘর তছনছের ধরন দেখে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

—জা. অর্থনীতি/এনজে