ইবিতে কর্মচারীদের বেতন বন্ধ, মানবেতর জীবনযাপন
ছবি: সংগৃহীত

ইবি প্রতিনিধি: দুই মাস ধরে বেতন না পেয়ে চরম আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) থোক বরাদ্দ ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরা। নিয়োগ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্যেও নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেও জুন ও জুলাই মাসের বেতন বকেয়া থাকায় পরিবার নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬২ জন থোক বরাদ্দ কর্মচারী কর্মরত আছেন। তারা প্রত্যেকে মাসিক ১০ হাজার টাকা করে সম্মানী পান। তবে সিন্ডিকেটের অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও গত জুন ও জুলাই—টানা দুই মাসের বেতন এখনও তাদের হাতে পৌঁছেনি। এতে দুই মাসে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বকেয়া পড়েছে।

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

এদিকে ‘রাজস্ব খাত থেকে টাকা আসেনি’ এমন অজুহাতে বেতন আটকে থাকায় দৈনন্দিন সংসার চালাতে চরম হিমশিম খাচ্ছেন ওই কর্মচারীরা।

একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত ডে লেবাররাও গত দুই মাস ধরে কোনো পারিশ্রমিক পাননি। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, বাসাভাড়া ও সন্তানদের শিক্ষাব্যয় মেটাতে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী বলেন, মাত্র ১০ হাজার টাকা বেতন হলেও সেটিই আমাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা। দুই মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় ধার-দেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে। নতুন করে দেবে কিনা তাও নিশ্চয়তা নেই।

তীব্র লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি, ইবিতে বিকল্প বিদ্যুতের পরিকল্পনা

বেতনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র জানায়, নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন রাজস্ব খাত থেকে আসলেও থোক কর্মচারীদের বেতন অন্য খাত থেকে দেওয়া হতো, যা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তবে উপাচার্য শীঘ্রই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

এদিকে সঠিক পন্থায় নিয়োগ হয়েছে কিনা, তা যাচাইয়ে একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে।

কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন জানান, তদন্তের সাথে বেতন দেওয়া-না দেওয়ার সম্পর্ক নেই। ইউজিসির কিছু আপত্তি ও বরাদ্দ সংক্রান্ত বিষয় থাকায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইউজিসি থেকে বরাদ্দ পেলেই বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। 

—জা. অর্থনীতি/এনজে