তাড়াইলে আমন চাষে ব্যস্ত কৃষক
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। উপজেলার সাত ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বীজতলা থেকে চারা তুলে জমি প্রস্তুত ও রোপণের কাজে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ব্যস্ত থাকছেন তারা। তবে মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ দিয়ে চারা রোপণ করতে গিয়ে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে, কোথাও বীজতলা থেকে চারা তোলা হচ্ছে, আবার কোথাও চলছে চারা রোপণের কাজ। মাঠে মাঠে এখন আমন চাষের কর্মব্যস্ততা। কৃষকদের হিসাবে ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে চারা রোপণ শেষ হয়েছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বাকি জমিতেও রোপণ শেষ হবে বলে আশা করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তাড়াইলে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৮২৩ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাইব্রিড ৫৪০, উফশী ৭ হাজার ২৮০ এবং স্থানীয় জাতের ৩ হেক্টর। ইতোমধ্যে হাইব্রিড ৫০০, উফশী ৪ হাজার ৯৫০ ও স্থানীয় জাতের ৩ হেক্টরসহ মোট ৫ হাজার ৪৫৩ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭০ শতাংশ।

কৃষি বিভাগ বলছে, আবাদের গতি ভালো থাকায় এবার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভাদ্র মাসে আশানুরূপ বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন চাষে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। সময়মতো চারা রোপণ না করলে চারার বয়স বেড়ে গিয়ে ফলন কমে যেতে পারে। তাই বৃষ্টির পানির অপেক্ষা না করে গভীর ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দিয়ে চারা রোপণ করছেন কৃষকেরা।

এবার মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় আমনের জমিতে পানি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন কৃষকেরা। প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় সেচের মাধ্যমে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণ করতে হয়েছে। এতে প্রতি বিঘা জমিতে সেচ বাবদ অতিরিক্ত ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান ও ফজলুর রহমান বলেন, সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় চারা রোপণে কিছুটা দেরি হয়েছে। সেচের পানি দিয়ে ধান রোপণ করায় খরচও বেড়েছে। এবার ফলন ও বাজারদর ভালো হলে সেই বাড়তি খরচ পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিকাশ রায় বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং জমি থেকে দ্রুত পানি সরে যাওয়ায় আমন আবাদে অগ্রগতি ভালো। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পাশাপাশি তা ছাড়িয়ে যাওয়ারও আশা রয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে কাজ করছেন। বৃষ্টির ঘাটতি ও সেচের বাড়তি খরচের বিষয়টি কৃষকেরা মোকাবিলা করে আমনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি