জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: ২০৫০ সালের পৃথিবী এখনো ভবিষ্যৎ। তাই সেই সময়ের অর্থনীতি কেমন হবে, তার কোনো নিশ্চিত ছবি নেই। তবে আজকের প্রযুক্তির গতি দেখে সম্ভাব্য একটি পৃথিবীর কল্পনা করা যায়।
এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আজ এআই তথ্য বিশ্লেষণ, লেখা, সফটওয়্যার তৈরি ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যবহৃত হচ্ছে। আগামী কয়েক দশকে এর সক্ষমতা আরও বাড়লে অনেক কাজের ধরন বদলে যেতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে রোবট।
কারখানা, গুদাম, কৃষি, নির্মাণ কিংবা স্বাস্থ্যসেবায় রোবটের ব্যবহার বাড়তে পারে। তখন মানুষের শ্রম পুরোপুরি অদৃশ্য না হলেও, একই পরিমাণ উৎপাদনের জন্য কম মানুষের প্রয়োজন হতে পারে।
কে জিতবে, আপনি নাকি এআই জানা সহকর্মী?
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ২০২৫ সালের ফিউচার অব জবস রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে প্রায় ১৭ কোটি নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে, আবার প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ চাকরি স্থানচ্যুত হতে পারে। অর্থাৎ প্রযুক্তির প্রভাব শুধু চাকরি কমানো নয়, নতুন কাজ তৈরি করাও।
২০৫০ সালের অর্থনীতিতে তাই ‘মানুষ কী কাজ করবে’ প্রশ্নটির পাশাপাশি আরেকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হবে মানুষ কীভাবে কাজ করবে?
সম্ভবত অনেক পেশায় মানুষ ও এআই একসঙ্গে কাজ করবে। মানুষ সিদ্ধান্ত, সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব ও সামাজিক যোগাযোগের জায়গায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ থাকবে, আর মেশিন করবে বিশ্লেষণ, পুনরাবৃত্তিমূলক ও শারীরিক অনেক কাজ। এখানে শক্তির গুরুত্বও বাড়বে।
এআই চালাতে বিশাল ডেটা সেন্টার প্রয়োজন, আর ডেটা সেন্টারের জন্য বিপুল বিদ্যুৎ দরকার। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বলছে, বিশ্বব্যাপী ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যবহার ২০২৪ সালের প্রায় ৪১৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা থেকে ২০৩০ সালে প্রায় ৯৪৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে।
চীনে চমক জাগানো প্রযুক্তি উৎসব
২০৫০ সালের অর্থনীতিতে সৌর, বায়ু, পারমাণবিক শক্তি, ব্যাটারি ও উন্নত বিদ্যুৎ গ্রিড গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হয়ে উঠতে পারে।
এরপর আসে মহাকাশ। আজ স্পেসএক্স, ব্লু অরিজিন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান উৎক্ষেপণ খরচ কমানো, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও নতুন মহাকাশ পরিষেবা তৈরি করছে। ভবিষ্যতে মহাকাশে উৎপাদন, পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগ কিংবা কক্ষপথভিত্তিক অবকাঠামোর মতো নতুন বাজার তৈরি হতে পারে।
তবে ২০৫০ সালেই মঙ্গলে বড় শহর হবে বা মহাকাশ থেকে বিপুল অর্থ আয় হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। এগুলো প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত কঠিন প্রকল্প।
তবু মহাকাশ অর্থনীতির সম্ভাবনা একেবারে কল্পনা নয়। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতি ২০২৩ সালের প্রায় ৬৩০ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০৩৫ সালে ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
রোবট কি মানুষের বিকল্প হতে পারবে?
আর যদি এআই, রোবট ও সস্তা শক্তি একসঙ্গে উৎপাদনের খরচ কমিয়ে দেয়, তাহলে তৈরি হতে পারে ‘অ্যাবানড্যান্স ইকোনমি’ যেখানে অনেক পণ্য আগের তুলনায় অনেক বেশি সহজলভ্য হবে।
তবে প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, সম্পদের মালিকানা যদি অল্প কিছু কোম্পানি বা মানুষের হাতে থাকে, তাহলে উৎপাদন বাড়লেও বৈষম্য বাড়তে পারে।
২০৫০ সালের অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়তো প্রযুক্তি কতটা উন্নত হবে, তা নয়। এই প্রযুক্তির সুফল কে পাবে?
হয়তো ২০৫০ সালের পৃথিবীতে মানুষ কম কাজ করবে, কিন্তু বেশি সৃষ্টি করবে। রোবট বেশি উৎপাদন করবে, এআই বেশি হিসাব করবে, আর মহাকাশ খুলবে নতুন অর্থনৈতিক সীমান্ত। কিন্তু সেই ভবিষ্যৎ হবে কেমন- তা শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তি নয়, ঠিক করবে মানুষের নেওয়া সিদ্ধান্তই।