জাতীয় অর্থনীতি অনলাইন: বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, জ্বালানি খাতে রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে বিনিয়োগ সহায়ক অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের চাহিদার সঙ্গে জ্বালানি খাতের অগ্রাধিকারের সামঞ্জস্য বজায় রেখে কাজ করছে বাংলাদেশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম (ডব্লিউআইএফ) ২০২৬-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন কনফারেন্স’-এ এক মন্ত্রীপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন আশিক চৌধুরী।
‘জলবায়ু অগ্রাধিকার থেকে বিনিয়োগ : জ্বালানি রূপান্তর প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় মূলত দেশগুলো কীভাবে তাদের জলবায়ু সংক্রান্ত অঙ্গীকার এবং জ্বালানি খাতের অগ্রাধিকারগুলোকে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়ার উপযোগী ও বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর প্রকল্পে রূপান্তর করতে পারে- তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আশিক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন কৌশলে সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের যোগাযোগ সহজ করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর লক্ষ্যে একটি একক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অধীনে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’
বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে একই ছাতার নিচে আনাকে একটি চ্যালেঞ্জিং প্রশাসনিক কাজ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন এবং সামগ্রিক বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে সংস্থাসমূহের মধ্যকার বিচ্ছিন্নতা বা প্রাতিষ্ঠানিক ভিন্নতা দূর করা অপরিহার্য।’
আশিক চৌধুরী বলেন, ‘এই উদ্যোগের ফলে বিনিয়োগ উন্নয়ন, নীতি গবেষণা, শিল্পভিত্তিক জমির উন্নয়ন এবং লেনদেন কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় সুদৃঢ় হবে, যা বিনিয়োগকারীদের প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াটিকে আরও দক্ষ ও সহজভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উন্নত প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বিশেষ করে অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে জমি প্রাপ্তি, নিয়ন্ত্রণমূলক আইনি প্রক্রিয়া এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক প্রকল্প প্রস্তুতির দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করা সম্ভব হবে।’
ক্লিন এনার্জি খাতে বাংলাদেশের বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশের লক্ষ্য হলো বাণিজ্যিক আকারের সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খাতের জন্য নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্প এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও গ্রিড অবকাঠামো জোরদারকরণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। এসব ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে অর্থায়নযোগ্য প্রকল্প তৈরি, উপযুক্ত জমির নিশ্চয়তা বিধান এবং সুনির্দিষ্ট ও অনুমেয় নীতি-কাঠামো প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।’
তিনি জানান, এই সমন্বিত বিনিয়োগ উন্নয়ন কাঠামো আন্তর্জাতিক তহবিল ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের যেমন লাভজনক প্রকল্পগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করবে, তেমনি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয়কেও দৃশ্যমানভাবে উন্নত করবে।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আয়োজিত এই ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে বিশ্বজুড়ে নীতি-নির্ধারক, ব্যবসায়ী নেতা এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশকে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আগামী সোমবার আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সামনে দেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও সুবিধাগুলো তুলে ধরবে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’।
এই ফোরামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ দেখিয়ে দিতে চায়, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, উন্নত প্রকল্প প্রস্তুতকরণ এবং জোরালো কাঠামোগত সমন্বয়ের মাধ্যমে কীভাবে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে আন্তর্জাতিক মূলধন সচল রাখা এবং ক্লিন এনার্জির দিকে দেশের রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করা সম্ভব।
তথ্যসূত্র : বাসস
—জা. অর্থনীতি/এএইচএ