চা শিল্পের আড়ালে শিশুশ্রম, আইন আছে প্রয়োগ নেই
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: দেশের চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের চা বাগানগুলোতে বাড়ছে শিশুশ্রমের নীরব সংকট। দারিদ্র্য, পরিবারের অর্থাভাব ও অসচেতনতার কারণে শৈশবের বই-খাতা ছেড়ে কচি বয়সেই শিশুরা নেমে পড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে। বিষাক্ত কীটনাশক স্প্রে, ভারী চা পাতা বহন ও আগাছা পরিষ্কারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ এখন চাবাগানের শিশুদের নিত্যদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া, কালীঘাট এবং কমলগঞ্জের মিতৃঙ্গা ও পাত্রখোলা চা বাগানে গিয়ে দেখা যায় এক করুন চিত্র। 

সকাল থেকেই ৮-১০ বছর বয়সী শিশুদের বাবা-মায়ের সাথে কাজ করতে দেখা যায়। বর্তমানে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি মাত্র ১৭০ টাকা হওয়ায় এক জনের আয়ে সংসার না চলায় বাধ্য হয়েই অভিভাবকরা সন্তানদের কাজে নামাচ্ছেন। বাগান ব্যবস্থাপনা কমিটি বিষয়টি এড়াতে চাইলেও চিকিৎসকরা বলছেন- বিনা নিরাপত্তায় কীটনাশক স্প্রে করায় শিশুরা শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ও ক্যানসারের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে তাদের শিক্ষা।

বাগান এলাকায় শিশুশ্রমের এই ভয়াবহ চিত্র নিয়ে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান চৌধুরী। চা বাগানে অবিলম্বে শিশুশ্রম বন্ধে কঠোর মনিটরিং, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধে মানসম্মত স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

শিশু শ্রম নিরসন আইন ২০১৩ অনুযায়ী ১৪ বছরের নিচে শিশু দিয়ে কাজ করানো দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও বাগান এলাকায় আইনটির কার্যকর প্রয়োগ নেই বললেই চলে। স্থানীয় চা শ্রমিক নেতা বিজয় হাজরা জানান, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও সঠিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে কোনো অভিভাবকই আর সন্তানকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে পাঠাবে না। চা শিল্পের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি এই শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি