মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: অনাবাদী পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে সবজি চাষ করে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছেন মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার দক্ষিণ জাঙ্গিরাই এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল মতিন (৩৫)। সততা, কঠোর পরিশ্রম ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে ব্যবসার পাশাপাশি অনাবাদী জমিতে শাকসবজি ও ফলমূল ফলিয়ে বছরে লাখ টাকা বাড়তি আয় করছেন তিনি।
জানা যায়, ২০২০ সালে দক্ষিণ জাঙ্গিরাই এলাকায় নিজেদের ২০ শতক এবং বার্ষিক ২৫ হাজার টাকায় ইজারা নেওয়া অপর এক মালিকের ৬০ শতক পতিত জমি নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে সবজি চাষ শুরু করেন মতিন। উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে শুরুতে স্থানীয় এক কৃষকের সঙ্গে যৌথভাবে টমেটো, কাঁচামরিচ, বেগুন ও ধনেপাতা চাষ করে মাত্র ৪০ হাজার টাকা খরচে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা লাভ করেন। এরপর থেকে নিজেই ব্যবসার পাশাপাশি বাগান পরিচালনা শুরু করেন।
বর্তমানে তিনি জমি নষ্ট রোধ ও উচ্চ ফলনের জন্য মালচিং পেপার, গ্রাফটিং ও পলিশেড পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। তার ৮০ শতক জমিতে গ্রীষ্ম ও শীতকালীন টমেটো, হলুদ তরমুজ, শসা, লাউ ও করলা চাষ হচ্ছে। দৈনিক ব্যবসার পাশাপাশি প্রতিদিন ভোরে জমিতে সময় দেন তিনি। তার এই বাগানে নিয়মিত একজন শ্রমিকের কর্মসংস্থানও হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেছেন তিনি এবং শীতের আগপর্যন্ত আরও আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার সবজি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
কৃষিকাজের পরিধি বাড়িয়ে মতিন বসতবাড়ির পাশে আরও দুই বিঘা জমিতে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল ও পেয়ারার ফলদ বাগানও গড়ে তুলেছেন।
জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল আলম খান জানান, সঠিক শ্রম ও পরিচর্যা থাকলে অনাবাদী জমিতেও সাফল্য আসে—আবদুল মতিন তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তার এ উদ্যোগ স্থানীয় অন্যদেরও উৎসাহিত করছে। সম্প্রতি মতিনের সবজি বাগানে স্থানীয় কৃষকদের অনুপ্রেরণা জোগাতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এক দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়, যেখানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে তাঁর উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি