ভারতের বিপক্ষে ব্যাটিং ব্যর্থতাই কাল হলো বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক: নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ৪০ রানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখলেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় জয়ের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।

বৃহস্পতিবারের ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারত ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রান সংগ্রহ করে। জবাবে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রানের বেশি করতে পারেনি। ফলে ৪০ রানের জয় নিয়ে ফাইনালে উঠে যায় ভারত।

ভারতের ইনিংসে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশের ফিল্ডিং ইউনিট। কয়েকটি ক্যাচ মিসের পাশাপাশি ভারতের ব্যাটারদের বাড়তি রান করার সুযোগ দেওয়া হয়। অধিনায়ক জ্যোতি অবশ্য ম্যাচ শেষে দলের লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমরা ওদের ১৩০ রানের মধ্যে আটকে রাখার কথা ভেবেছিলাম। গত কয়েক ম্যাচে যেভাবে বোলিং-ফিল্ডিং করেছি… তবে সেটা হয়নি। আমরা উইকেটও বিলিয়ে এসেছি। এতে রান তাড়া কঠিন হয়ে যায়।’

ব্যাটিং ব্যর্থতাকে দলের দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে জ্যোতি বলেন, ‘এটা দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের বড় এক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২ ম্যাচে যারা রান করেছে এবার তারা রান পায়নি। রানের এই অধারাবাহিকতাই আমাদের ভোগাচ্ছে।’

টুর্নামেন্টের শেষ তিন ম্যাচে বাংলাদেশের বোলাররা ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করেছেন বলে মনে করেন জ্যোতি। তবে ভারতের বিপক্ষে মাঝের ওভারগুলোতে তৈরি করা চাপ শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি দল।

বোলারদের প্রশংসা করে জ্যোতি বলেন, ‘বোলাররা গত ৩ ম্যাচে ভালো করেছে। আমরা ভুগছি ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে। উইকেট অবশ্য একটু ধীর গতির ছিল। ব্যাট করার জন্য এত সহজ ছিল না।’

ভারতের ইনিংসে কয়েকটি ক্যাচ হাতছাড়া হওয়ায় ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারত বলেও মনে করেন তিনি। স্মৃতি মান্ধানাকে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার পরও ভারতকে বড় সংগ্রহ থেকে আটকাতে পারেনি বাংলাদেশ।

জ্যোতির ভাষায়, ‘স্মৃতি মান্ধানা না শুধু, আমরা ওদের সব ব্যাটারকে নিয়েই কথা বলেছি। তারা সুযোগ দিয়েছিল, আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। দ্বিতীয় ওভারেই লং অনে ক্যাচ দিয়েছিল শেফালি ভার্মা। ঐ ক্যাচ ধরলে পুরো দৃশ্য অন্যরকম হতে পারত। তবে যেভাবে মেয়েরা লড়াই করেছে, আমি খুশি।’

বাংলাদেশ অধিনায়কের মতে, ভারতকে ১৩০ থেকে ১৩৫ রানের মধ্যে আটকে রাখতে পারলে রান তাড়ায় ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হতো। মাঝের ওভারগুলোতে স্পিনাররা পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করলেও শেষ দিকে ভারতীয় ব্যাটাররা দ্রুত রান তুলে নেন।

দলের বোলিং ও ফিল্ডিং নিয়ে জ্যোতি আরও বলেন, ‘আমরা ভালো ফিল্ডিংই করেছি। এই বিভাগেই বাকি দুই বিভাগের চেয়ে ভালো করেছি। বোলাররা ভালোই তো করছে। ভারত অনেক ভালো ব্যাটিংও করছিল। শেষদিকে অনেক রান তুলেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাঝখানে আমরা ঠিকই নিয়ন্ত্রণ রেখেছিলাম। স্পিনাররা পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করেছে। ১৩০-১৩৫ রানেই ওদের আটকে রাখা যেত, তাহলে ব্যাটিং ইউনিটের সামনে ভিন্ন দৃশ্যপট থাকত।’

ভারতের বিপক্ষে পরাজয়ের ফলে সেমিফাইনালেই থেমে গেল বাংলাদেশের এশিয়া কাপ অভিযান। টুর্নামেন্টজুড়ে বোলিংয়ে প্রতিশ্রুতিশীল পারফরম্যান্স দেখা গেলেও ব্যাটারদের ধারাবাহিকতার অভাবই দলের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে থাকল। বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানাও ভবিষ্যতে আরও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ