কিশোরগঞ্জে মায়ের গর্ভে থাকতেই পাঁচ শিশু বিক্রি, তদন্তে পুলিশ
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে গত তিন বছরে ৬০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকায় পাঁচ শিশুকে মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায়ই বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ চলতি মাসের ২ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এক নবজাতককে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কটিয়াদি উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে এসব ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলা বেগম নামে এক নারী ভিক্ষুকের মাধ্যমে শিশু কেনাবেচার ঘটনাগুলো ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে পুলিশ বলছে, অভিযোগের তদন্ত চলছে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় গত ৬ সেপ্টেম্বর কটিয়াদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বিক্রি হওয়া এক সন্তানের বাবা জাকির মিয়া। অভিযোগের পর অভিযুক্ত কয়েকটি পরিবার গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কটিয়াদি উপজেলার জালালপুর গ্রামের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামের জাকির মিয়া ও ফারজানা আক্তার দম্পতির আগে দুই ছেলে রয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর তাঁদের আরেকটি ছেলেসন্তান জন্ম নেয়। অভিযোগ রয়েছে, জন্মের পর নবজাতকটিকে পাকুন্দিয়া উপজেলার মঠখোলা এলাকায় ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়।

শিশুটির বাবা জাকির মিয়ার দাবি, তার অজান্তে স্ত্রী ফারজানা, শাশুড়ি দুই দালালের মাধ্যমে এই নবজাতক শিশু সন্তানকে বিক্রির এই লেনদেন করেছেন। তবে শিশুটির মা ফারজানা আক্তার জানান, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। সংসারের সংকটের জন্য তিনিই দায়ী। সন্তান বিক্রির সময় জাকিরের সম্মতি ছিল। পরে অন্যদের পরামর্শে তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন।

জাকির মিয়া বলেন, যে পরিবারের কাছে সন্তানটি দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানতে পেরেছেন, সেখানে গিয়ে কাউকে পাননি। হয়তো শিশুটিকে আরও বেশি টাকায় অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, জাকির-ফারজানা দম্পতির ঘটনা ছাড়াও একই গ্রামের আরও তিনটি পরিবার গত তিন বছরে নিজেদের সন্তান বিক্রি করেছে। এসব ঘটনায় মঙ্গলা বেগম নামের এক নারী জড়িত বলেও অভিযোগ তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন, ‘এই এলাকায় মাত্র তিন বছরের মধ্যে চারটি শিশু বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। সবশেষ ২ সেপ্টেম্বর জাকিরের স্ত্রী ফারজানা তার স্বামীকে না জানিয়ে নবজাতক বিক্রি করে দিয়েছেন।’

স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে যাদের কাছে শিশুগুলো বিক্রি করা হয়েছে হয়েছিল, তাদের কেউ কেউ পরে আরও বেশি দামে অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে চার শিশুর বর্তমান অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, জাকির-ফারজানার নবজাতক ৬০ হাজার টাকায়, সাদ্দাম হোসেনের এক সন্তান দেড় লাখ টাকায় এবং জাকির হোসেন ও আসাদ মিয়ার দুটি সন্তান ২ লাখ টাকা করে বিক্রি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ মিয়া বলেন, ‘গর্ভে থাকতেই সন্তান বিক্রি করবে বলে এলাকায় প্রচার করছিলেন ফারজানা। এমনকি তখনই কিছু টাকা হাতে পেয়েছিলেন। পরে হঠাৎ শুনি, সত্যিই সন্তান বিক্রি করে দিয়েছেন।’

জাকির হোসেনের ছোট ভাই মোহাম্মদ রাসেল বলেন, তার ভাই আগে বিড়ি-সিগারেটও খেতেন না। প্রবাস থেকে ফিরে তিনি জানতে পারেন, তার ভাই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন।

রাসেল আরও বলেন, ‘আমার ভাই হোক বা যেই হোক, আমি তার বিচার চাই। সুস্থ বিবেক থাকলে কেউ নিজের সন্তান অন্যের হাতে তুলে দিতে পারে না।’

অভিযোগের বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, শিশু বিক্রির অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের তদন্ত চলছে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি