মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণে অতিষ্ঠ জনজীবন, দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে যানবাহনের অহেতুক হাইড্রোলিক হর্ন এবং মাইকের উচ্চশব্দে মারাত্মক রূপ নিয়েছে শব্দদূষণ। বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে প্রতিদিনের এই শব্দ তাণ্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আইন থাকলেও তার প্রয়োগ না থাকায় নীরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় প্রশাসন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইজিবাইক ও সিএনজির উচ্চশব্দযুক্ত হর্নের পাশাপাশি বিভিন্ন যানবাহনে মাইক বেঁধে চিকিৎসক ও ওষুধের প্রচার এবং বিভিন্ন মালামাল বিক্রির ব্যাঘাত ঘটানো প্রচারণা অনবরত চলছে। হর্ন ও মাইকের উচ্চ শব্দে রাস্তায় কান চেপে যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। হাসপাতাল ও স্কুল-কলেজের সীমানাকে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে গণ্য করার নিয়ম থাকলেও প্রশাসনিক তদারকি না থাকায় তা মানা হচ্ছে না।

এছাড়া আবাসিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গড়ে ওঠা ছোট-বড় কারখানা এবং ওয়ার্কশপের অনিয়ন্ত্রিত শব্দের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বৃদ্ধ ও শিশুদের ঘুমে তীব্র ব্যাঘাত ঘটছে। বাসস্ট্যান্ড এবং তিন রাস্তার মোড়গুলোতে সামান্য ফাঁকা পেলেই চালকরা হাইড্রোলিক হর্ন বাজানোর প্রতিযোগিতায় মেতে উঠছেন, যার ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনাসংশ্লিষ্ট ঝুঁকিও।

গতকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও থানার সামনে যানজটে অহেতুক হাইড্রোলিক হর্ন বাজানো কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, হর্ন বাজানোর বিষয়ে আইনি কোনো বাধ্যবাধকতা আছে কিংবা এতে জরিমানা হতে পারে- সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। হর্ন না বাজালে গাড়ি সামনে এগোয় না বলেই তারা এটি নিয়মিত ব্যবহার করেন।

স্থানীয় পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, যেখানে তাড়াইলে শব্দের সহনীয় মাত্রা ৪০ ডেসিবেলের মধ্যে থাকা উচিত, সেখানে বর্তমানে তা ৯০ ডেসিবেল ছাড়িয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ বধিরতাসহ নানা শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় পড়তে পারেন।

শব্দদূষণের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অতীশ দাস রাজিব বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে মাত্রাতিরিক্ত শব্দের মধ্যে থাকলে মানুষের শ্রবণশক্তি কমে আস্তে আস্তে স্থায়ী বধিরতা তৈরি হয়। এছাড়া অতিরিক্ত শব্দ স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করে হার্টবিট ও রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। এটি দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগ, বিষণ্নতা, খিটখিটে মেজাজ এবং অনিদ্রার মতো জটিল মানসিক রোগের সৃষ্টি করে।"

অনিয়ন্ত্রিত এই শব্দদূষণ থেকে রক্ষা পেতে তাড়াইল উপজেলার সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ আইন প্রয়োগে প্রশাসনের জরুরি ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ দাবি করেছেন।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি