স্বর্ণের চেনের লোভে নামাজরত বৃদ্ধাকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীর মাধবদীতে ৭৩ বছর বয়সী বৃদ্ধা জাহানারা বেগমকে কুপিয়ে নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান তিন আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। মাত্র একটি সোনার চেইনের লোভে দীর্ঘ সাত-আট মাসের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মাধবদী থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশিকুর রহমান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই রাত পৌনে ৮টার দিকে মাধবদী থানার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের স্বর্পনৈগড় গ্রামে নিজ বাড়ির বারান্দায় এশার নামাজ আদায় করছিলেন বৃদ্ধা জাহানারা বেগম। এ সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সুযোগে তিন দুষ্কৃতকারী ঘরে ঢুকে পড়ে। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে এলে বৃদ্ধা তাদের চিনে ফেললে আসামিরা তাকে চেপে ধরে মাথায় কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং গলায় থাকা সোনার চেইনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নিহত জাহানারার ছেলে মো. ইসমাইল মিয়া বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার মো. মোস্তাক আহমেদের নির্দেশনায় মাধবদী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত স্বর্পনৈগড় গ্রামের হৃদয় মিয়া (২৭), কাদির মিয়া (২৭) ও আবু মিয়াকে (২৬) গ্রেপ্তার করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা সবাই চিহ্নিত মাদকসেবী। তাদের মধ্যে আসামি আবু মিয়া আজ বৃহস্পতিবার বিচারকের খাস কামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। এর আগে অপর দুই আসামিকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করে, স্থানীয় একটি মাদ্রাসার পাশে বসে প্রায় আট মাস আগেই তারা এই চুরির ছক কষেছিল। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, লুণ্ঠিত সোনার চেইন উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে ডিবির একাধিক টিমের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি