খুলনা প্রতিনিধি: খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে ও চারতলার ছাদ থেকে ফেলে হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের হাদি চত্বরে এক ঘণ্টার এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছাত্র বিষয়ক পরিচালকসহ একাধিক শিক্ষক ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, "ভাত খাওয়ার মতো অতি তুচ্ছ অপরাধের অপবাদ দিয়ে একজন তরুণ শিক্ষার্থীকে নির্যাতন চালিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা এক ঘৃণ্যতম ও বর্বর অপরাধ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যদি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কিংবা সাবেক কোনো শিক্ষার্থী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকে, তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।"
বক্তারা আরও স্পষ্ট করে বলেন, "একজন প্রকৃত শিক্ষার্থী কখনো মানুষ হত্যার মতো অপরাধে জড়াতে পারে না। যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সে কেবলই একজন অপরাধী এবং খুনি। এর দায় অপরাধীকেই নিতে হবে।"
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানান, ইতোমধ্যে দায়েরকৃত মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান চারজন শিক্ষার্থীর নাম উঠে এসেছে। এ ছাড়া এই হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জন জড়িয়ে রয়েছে। অনতিবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক আসামিকে গ্রেফতার করে কঠোর বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে খুলনা অঞ্চলসহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীদের রাজপথে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল সংলগ্ন ইসলাম নগর রোডের একটি বেসরকারি মেসে খাবারের মিল না দিয়ে ভাত খাওয়ার কথিত অভিযোগে আজমুল হোসেনকে ছাদে নিয়ে বেধড়ক পেটানো হয় এবং চুল কেটে নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে চারতলার ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি