পর্যটন জেলা ঘোষণার ১৮ বছর গেজেট হয়নি মৌলভীবাজারের

রাজন হোসেন তৌফিক, মৌলভীবাজার: চা-বাগান, পাহাড়, হাওর, বন ও ঝরনায় সমৃদ্ধ মৌলভীবাজার। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, হাকালুকি হাওর, শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে প্রতিবছর দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটক আসেন। পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকায় ২০০৮ সালে মৌলভীবাজারকে ‘পর্যটন জেলা’ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও ১৮ বছরেও প্রকাশিত হয়নি সেই ঘোষণার সরকারি গেজেট। ফলে নামে পর্যটন জেলা হলেও কাগজে-কলমে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলেনি জেলার।

২০০৮ সালের ১ জুলাই ‘এসো বাংলাদেশ গড়ি’ রোড শো উপলক্ষে মৌলভীবাজারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান শফিক আলম মেহেদী মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর ২০০৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পর্যটন উন্নয়নে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রস্তাবে চা-বাগান, বনাঞ্চল, পাহাড়-টিলা, হাওর, ঝরনা ও জীববৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে সমন্বিত পর্যটন উন্নয়নের সুপারিশ করা হয়। লাউয়াছড়া, মণিপুরি ও খাসিয়া পল্লি, মাধবকুণ্ড, হাকালুকি হাওর ও চা-বাগানকে পরিকল্পনার আওতায় এনে পর্যটকদের জন্য আবাসন, বিনোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সীমিত। লাউয়াছড়া, মাধবকুণ্ড ও ইকোপার্ককেন্দ্রিক কিছু উন্নয়ন হলেও জেলার পর্যটন সম্ভাবনাকে ঘিরে সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দৃশ্যমান নয়। জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে যোগাযোগব্যবস্থা, পথনির্দেশনা, নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত শৌচাগার ও প্রশিক্ষিত গাইডের সংকট রয়েছে। বেসরকারি উদ্যোগে কিছু হোটেল-রিসোর্ট গড়ে উঠলেও সরকারি পর্যটন অবকাঠামো এখনো অপ্রতুল।

জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদুজ্জামান পাবেল বলেন, আমি এখানে যোগদানের পর মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা ঘোষণার কথা শুনছি। কিন্তু এখনো কোনো গেজেট হাতে পাইনি। গেজেট না থাকলে পর্যটন জেলা হিসেবে আলাদা সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা কঠিন। তিনি বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগের কথা জানান। পরিবেশকর্মী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গেজেট প্রকাশের পাশাপাশি চা-বাগান, বন, হাওর ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে সমন্বয় করে টেকসই পর্যটনের জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রয়োজন।