নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছর বাংলাদেশে দিবসটির আয়োজন পেয়েছে নতুন মাত্রা। পর্যটন খাতের উন্নয়ন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাবনা এবং দেশের পর্যটন সম্পদকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা ১৯৮০ সাল থেকে প্রতি বছর ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস পালন করে আসছে। প্রতি বছর দিবসটির জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়। এর মাধ্যমে পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা ও সচেতনতা তৈরি করা হয়। ২০২৬ সালের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
বর্ণাঢ্য কর্মসূচি
বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রথম দিন ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হবে। এতে আবহমান বাংলার জীবনধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং ঢাকার সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হবে। র্যালির পর অনুষ্ঠিত হবে সাইকেল র্যালি। দিবসটির বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি বিশেষ সিটি ট্যুরের উদ্বোধন করা হবে।
২৮ সেপ্টেম্বর পর্যটন খাতের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের পর্যটনশিল্পের উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যটন উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির মূল আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে ৩ অক্টোবর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। ওই দিন ১২টি থিম্যাটিক প্রদর্শনী স্টল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার, জিআই পণ্য, কারুশিল্প ও স্যুভেনির, তাঁত ও বস্ত্র, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, পর্যটন গন্তব্য এবং আবহমান বাংলার জীবনধারা তুলে ধরা হবে। এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতা, ‘টাইম ট্রাভেল’ এবং পর্যটনকেন্দ্রে ছবি তোলার নতুন ধারণা প্রদর্শন করা হবে।
বিকালে অনুষ্ঠিত হবে ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ শীর্ষক আলোচনা সভা। এতে পর্যটনে প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল সেবা, পর্যটকদের অভিজ্ঞতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতের পর্যটনশিল্প নিয়ে আলোচনা হবে। পরে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের অন্যতম নতুন সংযোজন ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’। প্রথমবারের মতো ১৩টি ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেওয়া হবে। পর্যটনের টেকসই উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও পর্যটন উদ্যোগকে পুরস্কৃত করা হবে।
কক্সবাজারে তিন দিনের উৎসব
দিবস উপলক্ষে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ আয়োজন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের পর্যটন উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। লাবণী পয়েন্টের উন্মুক্ত মঞ্চকে কেন্দ্র করে এসব কর্মসূচি চলছে। ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে সমুদ্রসৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান দিয়ে আয়োজন শুরু হয়। পরে লোকসংগীত, ফায়ার শো ও ব্যান্ড সংগীতের আয়োজন রাখা হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর রয়েছে মিউজিক্যাল নাইট। আর ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবসে থাকবে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা, রাখাইন নৃত্য ও সমাপনী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।