মৌলভীবাজার ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া নড়ে না ফাইল
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের রাজনগর, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়াসহ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে খাজনা পরিশোধ, নামজারি ও মিস কেস সংক্রান্ত সেবায় চরম হয়রানি ও অবাধ ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকার ভূমে ডিজিটাল সেবা চালু করলেও তথ্য না জানা ও অনিয়মের সুযোগ নিয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত সেবাগ্রহীতাদের পকেট কাটছে একটি অসাধু চক্র।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জেলার একাধিক উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস সরেজমিনে ঘুরে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে অনিয়মের এ ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজনগরের সেবাগ্রহীতা কামরুল ইসলাম তার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ২ শতক জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে খাজনা দিতে গেলে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বিগত ৫০ বছরের বকেয়া খাজনা দেখিয়ে ১৪ হাজার টাকা দাবি করেন। অনুনয়-বিনয় শেষে ৯ হাজার টাকা গ্রহণ করেন তিনি। লিপন আহমেদ নামের অপর এক সেবাগ্রহীতা ব্যাংকের ৫০ হাজার টাকা ঋণের প্রয়োজনে খাজনা দিতে গেলে তাকে পুরো পর্চার বকেয়া হিসাব দেখিয়ে ২২ হাজার টাকা চাওয়া হয়। পরে 'বিশেষ সুবিধার' বিনিময়ে ১৪ হাজার ৮১৮ টাকার দাখিলা কেটে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারি ও মিস কেসের ফাইল সরাতে ন্যূনতম ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। আর জমিতে সীমানা বা শ্রেণিভিত্তিক জটিলতা থাকলে দালাল ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দাবিকৃত অঙ্কের পরিমাণ দাঁড়িয়ে যাচ্ছে ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত। তহসিলদার, কানুনগো, সার্ভেয়ার থেকে শুরু করে কার্যালয়ের পিয়ন-দালালদের হাত ঘুরে অত্যন্ত কৌশলে এই অর্থ লেনদেন হয়। অনেক ক্ষেত্রে মৌখিকভাবে বিপুল অঙ্কের টাকা নির্ধারণের পর কিছু অংশ অবৈধভাবে রেখে বাকি টাকার অনলাইন রসিদ হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

রাজনগরের অধিবাসী কাদির মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মাত্র দুই শতক জমির একটি মিস কেসের কাজে দেড় বছরে ১৫ বার অফিসে গিয়েও সমাধান পাননি। শুনানির নির্দিষ্ট তারিখে গিয়েও কোনো নোটিশ ছাড়া অনেক সময় কর্মকর্তাদের অনুপস্থিত থাকতে দেখেছেন।

অনিয়মের বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে মন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোসা. শাহীনা আক্তার বলেন, "ভূমি অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে তাৎক্ষণিক বরখাস্তসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে অনলাইন মাধ্যমে ঘরে বসেই ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যা প্রচারের অভাবে সাধারণ মানুষ ব্যবহার করতে পারছেন না। তাছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি যৌথ পর্চার সব জমির খাজনা একসঙ্গেই পরিশোধ করতে হয়, তবে পৃথক করতে হলে অবশ্যই নতুন করে নামজারি (মিউটেশন) সম্পাদন করতে হবে।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি