ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিভাগীয় সেশনজট ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ফার্মেসী বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন।
বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ইবির ৯টি অনুষদের সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ইউজিসি বৃত্তির জন্য মনোনীত করা হয়। এ তালিকায় জীববিজ্ঞান অনুষদ থেকে সর্বোচ্চ ৩.৯০ সিজিপিএ পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন। তবে পরীক্ষার সময়সীমা ও ফলাফল প্রকাশের তারিখ নিয়ে বিপত্তি বাধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অনুষদ নির্ধারিত সময়ের (২০২৫ সালের মধ্যে) মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন ও ফল প্রকাশ করতে পারলেও, জীববিজ্ঞান অনুষদের সেশনজট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে পরীক্ষা শুরু হয় ২০২৫ সালের নভেম্বরে এবং চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয় ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে। অথচ ইউজিসির বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৫ সালের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক প্রদান-সংক্রান্ত নীতিমালা (সংশোধিত) ২০১৭ অনুযায়ী ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পৃথকভাবে মনোনয়ন প্রদান করতে হবে। তবে ২০২৫ সালের মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে 'প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক প্রদান-সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৫' অনুযায়ী মনোনয়ন প্রদান করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক নীতিমালা (২০২৫) বলা হয়েছে, "যেই বৎসরের পদকের জন্য মনোনয়ন চাওয়া হইবে, সেই বৎসরের ১লা জানুয়ারি হইতে ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে প্রকাশিত ফলাফল বিবেচিত হইবে।"
ইতিমধ্যে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন বরাবর লিখিত অভিযোগ ও প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন মামুন। অভিযোগপত্রে মামুন উল্লেখ করেন, বিভাগের সেশনজট ও প্রশাসনিক বিলম্বের পেছনে শিক্ষার্থীর কোনো ব্যক্তিগত ত্রুটি বা অবহেলা ছিল না। সম্পূর্ণ প্রশাসনিক কারণে সৃষ্ট এই বিলম্বের খেসারত একজন শিক্ষার্থী কেন দেবে? এই সেশনজটের দায় পুরোপুরি অনুষদ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।
তিনি আরও জানান, নীতিমালার অজুহাতে তাকে বাদ দিয়ে মেধা তালিকার পেছনের কাউকে এই সুবিধা দেওয়া হলে তা হবে স্পষ্ট মেধার অবমূল্যায়ন ও চরম অন্যায়। জানা যায়, এ পদকের তালিকায় বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পরবর্তী পজিশনের একজনকে মনোনীত করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি মানবিক ও ন্যায়সংগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে উপাচার্যের নিকট উপস্থাপন এবং দ্রুত প্রশাসনিক সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
সে সময়ে বিভাগের দায়িত্বে থাকা সভাপতি অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, “ফার্মেসি বিভাগে মাত্র ৪ জন শিক্ষক, এজন্য অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালাতে গিয়ে আমাদেরকে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়েছে। আর রেজাল্ট তৈরিতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইটের সমস্যা আছে, তাই ওদের রেজাল্ট তৈরিতে আমাদের প্রায় ৩ মাস সময় লেগেছিলো।”
জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বাবলী সাবিনা আজহার বলেন, “ইউজিসি প্রদত্ত নোটিশে ২০২৫ সালের মধ্যে অনার্স শেষ হওয়ার কথা বলা হয়েছে, এখানে শুধুমাত্র শিক্ষাবর্ষের কথা বলা হয়নি। সুতরাং একইভাবে আগামীতে ইউজিসি বৃত্তি দিলে তার হয়তো সুযোগ থাকতে পারে। তাছাড়া এটা ইউজিসির নীতিমালা। তারা যেভাবে নোটিশ করেছে ঐভাবেই আমাদের করতে হবে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ বলেন, “আমি ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগেই এসব প্রক্রিয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উচ্চতর সিদ্ধান্তের জন্য আগামী শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসে বিষয়টি নোটিশ আকারে পাঠাবো। উনারা যে সিদ্ধান্ত দিবেন ঐটাই চূড়ান্ত হবে।”
—জা. অর্থনীতি/এলএটি