এশিয়ান গেমস হকিতে সপ্তম বাংলাদেশ

জাপানের গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে সপ্তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ পুরুষ হকি দল। শক্তিশালী থাইল্যান্ডকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে তারা এশিয়ান গেমসে নিজেদের হকি অভিযানের শেষ করেছে। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। খেলার মাত্র তিন মিনিটে ফিল্ড গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন রোমান সরকার। প্রথমার্ধের খেলা শেষের ঠিক তিন মিনিট আগে, অর্থাৎ ২৭তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আমিরুল ইসলাম। ২-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের প্রাধান্য বজায় রাখে দলটি। ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে তৃতীয় গোলটি করে জয়ের ব্যবধান আরও পাকাপোক্ত করেন আশরাফুল ইসলাম। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের এই স্পষ্ট ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ, যা টুর্নামেন্টে দলটির লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দেয়।

 

অন্যদিকে নারী হকিতে দারুণ সাফল্যের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ নারী হকি দলও। জাপানের গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে ৯ম থেকে ১২তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে টাইব্রেকারে পরাজিত করে আসরে নবম স্থান অধিকার করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দেশের হকি অঙ্গনের জন্য এটি অত্যন্ত গৌরবের একটি মুহূর্ত।

 

ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল বেশ রোমাঞ্চকর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের খেলায় উভয় দলই একে অপরকে সমান টক্কর দেয়। ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারের শুরুতেই, অর্থাৎ ১০ মিনিটের মাথায় বাংলাদেশের পক্ষে দারুণ এক ফিল্ড গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আইরিন আক্তার রিয়া। তার এই চমৎকার গোলে ১-০ ব্যবধানের লিড নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে বাংলাদেশ দল। তবে ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি সিঙ্গাপুর। পরবর্তীতে তারা আক্রমণ শাণিত করে এবং ম্যাচের একটি নির্ধারিত সময়ে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল শোধ করে খেলায় সমতা (১-১) ফিরিয়ে আনে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত উভয় দলই আর কোনো গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

 

এরপর শুরু হয় চরম স্নায়ুচাপের লড়াই। পেনাল্টি শুটআউটে খেলোয়াড়দের ধৈর্য এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় সিঙ্গাপুরকে ২-১ ব্যবধানে পেছনে ফেলে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলে এশিয়ান গেমসের নারী হকি আসরে নবম স্থান অর্জনের গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ নারী হকি দল।

 

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই জয় দেশের নারী হকি খেলোয়াড়দের মনোবল আরও বাড়িয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে হকি উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস সংশ্লিষ্টদের। আন্তর্জাতিক মঞ্চে লাল-সবুজের পতাকাকে উঁচুতে তুলে ধরার জন্য হকি দলের এই অদম্য লড়াই ও সাফল্য দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের করেছে আনন্দিত ও গর্বিত।