অনলাইন ডেস্ক: নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের অপেক্ষার মধ্যে এবার সামনে এলো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের নাম।
ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু ঠিক কোন কোন প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় রয়েছে? আর কবে থেকে কর্মীরা নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাবেন?
৭ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রশাসন শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি জারি করা হয়। উপসচিব সারমিন সুলতানার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর আওতায় স্বশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জারি করা গেজেট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, এটি সরাসরি নতুন বেতন হাতে পাওয়ার ঘোষণা নয়। বরং গেজেট অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রশাসনিক কাজ এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা।
এর আগে, ১৭ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগ জারি করে গুরুত্বপূর্ণ একটি গেজেট। যার আওতায় রয়েছে স্বশাসিত বা পাবলিক বডিজ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন বেতন ও ভাতার কাঠামো। সরকারি গেজেটের তালিকায় একই দিনে সরকারি চাকরি, ব্যাংক-বিমা-আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পুলিশ ও বিজিবির জন্যও পৃথক বেতন-ভাতা আদেশ জারি হওয়ার তথ্য রয়েছে।
এবার আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে-কোন কোন প্রতিষ্ঠানে গেজেটের কপি পাঠানো হয়েছে? তালিকায় রয়েছে দেশের ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক। সোনালী ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি।
এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি-বিডিবিএল।
এসব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেজেটের কপি পাঠানো হয়েছে।
শুধু ব্যাংক নয়। তালিকায় আরও রয়েছে দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ইনসিওরেন্স একাডেমি।
সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ ইনসিওরেন্স একাডেমির পরিচালকের কাছেও গেজেটের কপি পাঠানো হয়েছে। সাম্প্রতিক একাধিক প্রতিবেদনে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ও ৭ অক্টোবরের প্রশাসনিক নির্দেশনার বিষয়টি একইভাবে এসেছে।
এখন প্রশ্ন হলো, এই পে-স্কেলে আসলে কী পরিবর্তন হচ্ছে? নতুন পে-স্কেলে ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত থাকছে। তবে, গ্রেডভেদে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বাড়ছে। সর্বনিম্ন ক্ষেত্রে বেতন দ্বিগুণ হয়েছে, আর সর্বোচ্চ ক্ষেত্রে বেড়েছে ১৪২ শতাংশ।
প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। তবে এই বৃদ্ধি একসঙ্গে কার্যকর হচ্ছে না।
নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত রয়েছে। আর বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, উৎসব ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা নতুন হারে কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখা জরুরি। ৭ অক্টোবরের চিঠি মানেই ওই দিন থেকেই সংশ্লিষ্ট সব কর্মীর বেতন নতুন হারে হাতে চলে আসছে-এমনটি নয়।
গেজেটের কপি পাঠানোর পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ বেতন নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় অফিস আদেশ এবং অন্যান্য বাস্তবায়নমূলক কাজের মধ্য দিয়েই নতুন কাঠামো কার্যকর হবে।
একদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ইতোমধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশ হয়েছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও নির্দিষ্ট স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানেও সেই কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। ফলে, পে-স্কেলের সুবিধা শুধু কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তরেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানেও এর প্রশাসনিক প্রয়োগের পথ তৈরি হচ্ছে।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গেজেট জারি হয়েছে, এখন বাস্তবায়নের পালা।
আর ৭ অক্টোবরের এই চিঠি সেই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে আরও এক ধাপ সামনে এগিয়ে দিল। অর্থাৎ, নতুন পে-স্কেল এখন শুধু প্রজ্ঞাপনের কাগজে নয়; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক ব্যবস্থাতেও ঢুকতে শুরু করেছে।
নতুন পে-স্কেল এবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকেও! কিন্তু কারা আছেন তালিকায়?
সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক আর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-এই ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পাশাপাশি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন ও বাংলাদেশ ইনসিওরেন্স একাডেমিতেও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়েছে।
৭ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে গেজেটের কপি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে অর্থ বিভাগের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর স্বশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা গেজেট জারি করা হয়।
তবে একটা বিষয় পরিষ্কার, চিঠি পাঠানো মানেই এখনই সবার বেতন নতুন হারে হাতে পাওয়া নয়। গেজেট অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই বাস্তবায়ন হবে। আর সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন গ্রেডভেদে বেড়েছে ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
