লালমনিরহাট প্রতিনিধি: প্রতিপক্ষের হামলায় গর্ভের সন্তান নষ্ট হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মেডিকেল সার্টিফিকেটে তা 'নরমাল' বা স্বাভাবিক দেখানোর প্রতিবাদে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে ভুক্তভোগী তানিজা বেগম ও তাঁর পরিবারের উদ্যোগে এই দেড় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে স্থানীয় এলাকাবাসীও সংহতি জানিয়ে অংশ নেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় তানিজা বেগম গুরুত্বর আহত হন। সে সময় তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। স্বজনদের দাবি, হামলার কারণে রক্তক্ষরণ হয়ে তাঁর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে তানিজাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হলেও হাসপাতাল থেকে ইস্যুকৃত মেডিকেল সার্টিফিকেটে হামলার ভয়াবহতা ও গর্ভপাতের তথ্য গোপন করে রিপোর্ট পরিবর্তন করা হয় এবং স্বাভাবিক জখম হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ফলে আইনি প্রতিকার ও মামলার সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর।
মানববন্ধনে তানিজা বেগম অশ্রুসজল কণ্ঠে বলেন, "প্রতিপক্ষের হামলায় আমার গর্ভের সন্তান মারা গেল, অথচ ডাক্তারের ভুয়া রিপোর্টে তা স্বাভাবিক দেখানো হয়েছে। আমি সন্তান হত্যার বিচার এবং টাকার বিনিময়ে মেডিকেল রিপোর্ট জালিয়াতি চক্রের শাস্তি চাই।"
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী রাজিব মোহাম্মদ নাসের জানান, ভুক্তভোগী পরিবার লালমনিরহাট জেলা সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও পুনঃতদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগীকে রংপুর মেডিকেল কলেজে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. জেনিন মোস্তারি বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, তানিজা বেগম পেটে আঘাত নিয়ে গর্ভাবস্থাতেই তাঁর কাছে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন এবং তাঁর সমস্ত অফিশিয়াল চিকিৎসা নথিতে স্পষ্ট প্রেগন্যান্সির উল্লেখ রয়েছে। এ অবস্থায় উপজেলা হাসপাতালের সার্টিফিকেটে তা নরমাল আসার বিষয়টি বোধগম্য নয়।
লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম বলেন, "ভুক্তভোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত পূর্বের নথিপত্রে গর্ভধারণের সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে, কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
—জা. অর্থনীতি/এলএটি