ট্রাম্পের হাতে নোবেল, নাকি শুধু আফসোস
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

অনলাইন ডেস্ক: “আমি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাই বা না পাই, আমি এরই মধ্যে অনেক বেশি কাজ করেছি। আমাকে এই পুরস্কার না দিলে সেটি নোবেল কমিটির জন্যই বড় ধরনের অসম্মানের বিষয় হবে।”

বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেওয়া হয় নোবেল শান্তি পুরস্কার। কিন্তু এবার গল্পটা একটু অন্যরকম! যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন; তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য।

তিনি বলেন, পুরস্কার না দিলে নোবেল কমিটিরই নাকি বড় ধরনের অসম্মান হবে! ট্রাম্প এটাও বলেন; কমিটি তার মতো মানুষকে পুরস্কার দেয় কি না, তা নিয়েও তার আছে সন্দেহ।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প নোবেল চান কেন? তার দাবি; দ্বন্দ্ব ও যুদ্ধ থামাতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি একাধিক সংঘাত মীমাংসার কৃতিত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছেন। অর্থাৎ ট্রাম্পের বক্তব্য অনেকটা এমন যে “আমি যদি যুদ্ধ থামাই, তাহলে পুরস্কারটা অন্য কেউ নেবে কেন?”

এখন প্রশ্ন; ট্রাম্প কি সত্যিই নোবেল পেতে পারেন? সরাসরি শতাংশ দিয়ে বলা কঠিন। কারণ নোবেল কমিটি আগে থেকে কোনো প্রার্থীর সম্ভাবনা প্রকাশ করে না। এমনকি কারা মনোনয়ন পেয়েছেন, সেটিও চূড়ান্ত ঘোষণার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় না। তবে প্রকাশ্য বিশ্লেষণে ট্রাম্পকে এবারের পুরস্কারের সবচেয়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে না। কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বরং বলেছন, তার পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

কারণ কি? ট্রাম্প একদিকে শান্তি প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব দাবি করছেন, অন্যদিকে তার দ্বিতীয় মেয়াদে ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত হয়েছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতিও এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে তার ‘শান্তির দূত’ দাবিকে ঘিরে বিতর্কও রয়েছে।

যদি নোবেল পান তাহলে কী হবে? ট্রাম্পের জন্য এটি হবে

বিশাল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তার নিজের ভাষায় যেসব শান্তি উদ্যোগের কথা তিনি বলছেন, সেগুলো নোবেল কমিটির স্বীকৃতি পেলে তার পররাষ্ট্রনীতির জন্য বড় একটি প্রতীকী জয় হবে। সে সময় রাজনীতির মাঠে তার সমর্থকেরা বলতে পারবেন।
 
 “দেখলেন তো! সমালোচনা যতই হোক, নোবেল কমিটিও শেষ পর্যন্ত স্বীকৃতি দিল!” আর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ট্রাম্পের ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার’ দাবিও হয়ে উঠতে পারে আরও শক্তিশালী।

কিন্তু নোবেল না পেলে?  ট্রাম্পের জন্য পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে না! বরং তার সমর্থকেরা হয়তো বলবেন; “কমিটি ট্রাম্পকে পছন্দ করে না, তাই দেয়নি!” আর ট্রাম্প নিজেও ইতোমধ্যে এমন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। নোবেল কমিটির পক্ষপাতিত্ব নিয়ে সন্দেহের কথাও উঠে এসেছে তার বক্তব্যে।

তবে পুরস্কার না পাওয়ার অর্থ এটাও নয় যে ট্রাম্প মনোনীতই ছিলেন না বা তার কোনো শান্তি উদ্যোগ ছিল না। কারণ নোবেল কমিটির নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়ন পাওয়া আর পুরস্কার পাওয়া; দুইটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। কয়েকশ প্রার্থী থেকে কমিটি ধাপে ধাপে তালিকা ছোট করে শেষ পর্যন্ত একজন বা একটি প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেয়।

আর এখানেই মজার বিষয়;  ট্রাম্প নোবেল চান, ট্রাম্প মনে করেন তিনি নোবেলের যোগ্য, সমর্থকেরা তার পক্ষে প্রচার করছেন, আবার বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ বলছেন, পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

শেষ কথা কিন্তু ট্রাম্পের হাতে নেই। কারণ নোবেল শান্তি পুরস্কারের পাঁচ সদস্যের কমিটিই শেষ সিদ্ধান্ত নেয়। আলোচনা, বিশেষজ্ঞ মতামত ও দীর্ঘ পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়। আর সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আপিলের সুযোগও নেই।

তাই এখন আসল প্রশ্ন; ট্রাম্প নোবেল পাবেন, নাকি নোবেল নিয়ে শুধু ট্রাম্পের দাবি আর আলোচনাই ইতিহাস হয়ে থাকবে? উত্তর মিলবে কিছুক্ষণ পর। যখন ঘোষণা করা হবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ীর নাম। ততক্ষণ পর্যন্ত ট্রাম্পের নোবেল-দাবি নিয়ে চলতেই পারে হিসাব।

 

—জা. অর্থনীতি/এলএটি