আবারও কি চালু হবে কলকাতা-খুলনা ট্রেন? অপেক্ষায় দুই দেশের যাত্রী
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি সারাবাংলা: দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর কলকাতা-বেনাপোল-খুলনা রুটে জনপ্রিয় ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ ট্রেন পুনরায় চালুর সম্ভাবনা ঘিরে সীমান্ত অঞ্চলে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্তরেল যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়ে নীতিগত আলোচনা শুরু হলেও ট্রেন চলাচলের চূড়ান্ত দিন-তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। ট্রেনটি ফের চালু হলে দুই দেশের পাসপোর্টযাত্রীদের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা, শিক্ষা, পর্যটন ও দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার পাসপোর্টযাত্রী ভারত ও বাংলাদেশে যাতায়াত করেন। একই সঙ্গে এ সীমান্ত দিয়ে পরিচালিত হয় বিপুল পরিমাণের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। ফলে খুলনা ও কলকাতার মধ্যে সরাসরি ট্রেন সার্ভিস চালু হলে সীমান্তকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে প্রত্যাশা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের।

দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও যাতায়াত সুগম করতে ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর খুলনা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে চালু হয়েছিল বন্ধন এক্সপ্রেস। তবে বিশ্বব্যাপী নানা প্রেক্ষাপট ও সীমান্ত ভিসা সীমাবদ্ধতার কারণে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে ট্রেনটির চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়। সম্প্রতি ভিসা প্রক্রিয়া ও যাতায়াত সহজীকরণে ইতিবাচক আলোচনার পর আবারও বন্ধন এক্সপ্রেস চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ইমদাদুল হক জানান, বন্ধন এক্সপ্রেস চালুর পাশাপাশি দুই দেশের সীমান্ত ভিসা ব্যবস্থা আরও সহজ করা জরুরি। ট্রেনটি চালু হলে খুলনা বিভাগের সাধারণ মানুষ, চিকিৎসাপ্রত্যাশী রোগী এবং বেনাপোল স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন। অন্যদিকে, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও পাসপোর্টযাত্রীরা বলছেন-সরাসরি ট্রেন চালু থাকলে যাতায়াতের ভোগান্তি ও সময় বহুলাংশে কমে আসবে।

বেনাপোল রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার আয়নাল হাসান জানান, বন্ধন এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে বেনাপোল রেলস্টেশনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে ওয়েটিং রুমসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামোগত সংস্কার কাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই ট্রেন পরিচালনা সম্পর্কিত পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বন্ধন এক্সপ্রেস চলাচলের ওপর ভর করে সীমান্ত বাণিজ্য বিস্তার এবং সরকারের বিপুল রাজস্ব অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এখন দুই দেশের সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন যাত্রী, পর্যটক ও ব্যবসায়ী সমাজ।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি