কোটি মানুষের শহরকে এসির মতো ঠান্ডা করা সম্ভব?
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক:

 

পুরো একটি শহরকে কী এসির মতো ঠান্ডা করা সম্ভব? তাপপ্রবাহে যখন শহরের তাপমাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে, তখন বিজ্ঞানীরা খুঁজছেন বিকল্প শীতলীকরণ প্রযুক্তি। জলকণা দিয়ে বাতাস ঠান্ডা করা থেকে শুরু করে মেঘকে আরও উজ্জ্বল করার মতো প্রযুক্তি নিয়ে চলছে পরীক্ষা। কিন্তু কোটি মানুষের শহরকে ঠান্ডা করতে কতটা বাস্তবসম্মত এসব সমাধান?

দাবদাহ যখন বিশ্বের শহরগুলোতে ক্রমেই বড় হুমকি হয়ে উঠছে, তখন প্রশ্ন উঠছে, পুরো একটি শহরকে কি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করার মতো ঠান্ডা রাখা সম্ভব?

এর একটি সম্ভাবনাময় পদ্ধতি হিসেবে আলোচনায় এসেছে ‘মেরিন ক্লাউড ব্রাইটেনিং’। এতে সমুদ্রের পানি সূক্ষ্ম কণা হিসেবে বাতাসে ছিটানো হয়। কণাগুলো মেঘের প্রতিফলন ক্ষমতা বাড়িয়ে বেশি সূর্যরশ্মি মহাকাশে ফেরত পাঠাতে পারে। তবে, প্রযুক্তিটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে, স্পেনে জেসাস আরেসো সালিনাস তৈরি করেছেন ‘কাতাবাতিক টাওয়ার’। টাওয়ারের ওপর থেকে সূক্ষ্ম জলকণা ছিটালে শুষ্ক বাতাসে তা দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে আশপাশের তাপ শোষণ করে। এতে ঠান্ডা ও ভারী বাতাস নিচে নেমে আসে। সালিনাসের দাবি, বড় আকারে তৈরি করলে এই প্রযুক্তি শহরের রাস্তা, পার্ক বা চত্বরও ঠান্ডা করতে পারে। তবে, এই পদ্ধতির বড় সীমাবদ্ধতা পানি। দাবদাহের সময় অনেক শহরেই পানির সংকট ও খরা দেখা দেয়। আর আর্দ্র আবহাওয়ায় বাষ্পীভবনের হার কম হওয়ায় এর কার্যকারিতাও কমে যায়।

পানির সংকট কাটাতে সমুদ্রের লোনা পানি ব্যবহারের প্রস্তাবও রয়েছে। নেদারল্যান্ডসের গবেষকরা উপকূলীয় উইন্ড টারবাইনের মাধ্যমে লোনা পানি ছড়িয়ে বাতাস ঠান্ডা করার সম্ভাবনা পরীক্ষা করছেন। কিন্তু বাতাসের অনিশ্চিত গতিপথ বড় বাধা।

অন্যদিকে, সূর্যের আলো প্রতিফলিত করতে বায়ুমণ্ডলে কণা ছড়ানোর মতো জিওইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি নিয়েও গবেষণা চলছে। তবে, এসব পদ্ধতির পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে রয়েছে তীব্র বিতর্ক!

অর্থাৎ, শহরকে পুরোপুরি ‘এসি’ বানানো এখনো বাস্তবতা নয়। বরং পানি, মেঘ, ছায়া ও নগর পরিকল্পনার সমন্বয়ে স্থানীয়ভাবে তাপ কমানোর প্রযুক্তিই আপাতত বেশি বাস্তবসম্মত পথ। জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে পাল্লা দিয়ে ভবিষ্যতের শহরগুলো কতটা দ্রুত এসব সমাধান গ্রহণ করতে পারে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

শহর ঠান্ডা করতে নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষা?

পুরো একটি শহরকে কী এসির মতো ঠান্ডা করা সম্ভব? তাপপ্রবাহে যখন শহরের তাপমাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে, তখন বিজ্ঞানীরা খুঁজছেন বিকল্প শীতলীকরণ প্রযুক্তি। জলকণা দিয়ে বাতাস ঠান্ডা করা থেকে শুরু করে মেঘকে আরও উজ্জ্বল করার মতো প্রযুক্তি নিয়ে চলছে পরীক্ষা। কিন্তু কোটি মানুষের শহরকে ঠান্ডা করতে কতটা বাস্তবসম্মত এসব সমাধান?

এসি ছাড়াই শহর ঠান্ডা?

পুরো একটি শহরকে এসির মতো ঠান্ডা করার ধারণা নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। স্পেনে জলকণা বাষ্পীভবনের মাধ্যমে বাতাস ঠান্ডা করার ‘কাতাবাতিক টাওয়ার’ পরীক্ষা চলছে। সমুদ্রের লোনা পানি ব্যবহার এবং মেঘকে আরও উজ্জ্বল করে সূর্যরশ্মি প্রতিফলনের ‘মেরিন ক্লাউড ব্রাইটেনিং’ নিয়েও গবেষণা হচ্ছে। তবে, পানির সংকট, আর্দ্র আবহাওয়া, বাতাসের অনিশ্চিত গতিপথ এবং জিওইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিবেশগত ঝুঁকি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই আপাতত পুরো শহরকে এসির মতো ঠান্ডা করা সম্ভব না হলেও স্থানীয়ভাবে তাপ কমানোর প্রযুক্তিগুলো ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি