বিনোদন ডেস্ক: স্ত্রী ইকরার মৃত্যুতে অভিনেতা জাহের আলভী বিপন্ন এক জীবন যাপন করে চলেছেন। একমাত্র সন্তান রিযিকের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন এই টেলিভিশন নাটকের অভিনেতা। আজ (১৫ অক্টোবর) ইকরার জন্মদিন। মৃত স্ত্রীর উদ্দেশ্যে আলভীর এক ফেসবুক শুভেচ্ছা পোস্টে উঠে এসেছে আবেগ ও ভালবাসার চূড়ান্ত বহি:প্রকাশ। পাশাপাশি উঠে এসেছে চলমান জীবনের শূন্যতা মিশ্রিত নানা অধ্যায়, চেয়েছেন ক্ষমাও। আলভীর এমন পোস্টে আবেগাপ্লুত তার ভক্ত-দর্শকও। নিচে জাহের আলভীর সম্পূর্ণ পোস্ট হুবহু তুলে দেওয়া হলো।
‘শুভজন্মদিন ইকরা । তুমি আবার প্রমাণ করে গেলে, একজন মৃত মানুষের ভ্যালু অনেকগুলো জীবিত মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। তোমার অনুপস্থিতি আমাকে ভাবায়। রিযিককেও হয়তো ভাবায়। তুমি থাকলে হয়তো এই সময়টা কেক কেটে আমরা তিনজন খুব চিল করতাম ।
আজকে তোমার কাছে মাফ চাচ্ছি কিছু বিষয়ে, জন্মদিন উপলক্ষে পারলে মাফ করে দিও। তুমি নেই, আর আসবেও না, তবুও আমি অক্সিজেন নিচ্ছি, তবুও আমি দিব্যি ৩ বেলা খাচ্ছি, গোসল করছি, জীবিকার তাগিদে এদিক-ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছি, গান শুনছি, মজার মুহূর্তে হাসছি, রিযিককে নিয়ে ভাল থাকার চেষ্টা করছি, ফেসবুকে ছবি আপলোড দিচ্ছি, শুটিং করছি, জীবনে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।
সাধারণ মানুষদের খুব কমপ্লেইন, কেন তুমি চলে যাওয়াতে, আমার জীবন থেমে যাচ্ছে না, কেন তুমি চলে যাওয়াতে আমার মুখে এখনো গান আসে, কেনই বা এখনো আমি ছবি আপলোড দেই, কেনই বা আমি শুটিং করে জীবিকা নির্বাহ করি, কেন এখনো আমি ধ্বংস হচ্ছিনা, কেনই বা আমি জেলে পচে মরছিনা, কেনই বা আমি রিযিকের সান্নিধ্যে আসলাম, কেনই বা তুমি আসবে না জেনেও তোমার পথ চেয়ে বসে থাকছি না। কেনই বা আমি তোমার বিরহে ধ্বংস হয়ে, নিঃশ্বেষ হয়ে আমাদের রিযিকের জীবনটাও ধ্বংস করছি না!! আরো কত কি!
মাঝে মাঝে এমন এমন কিছু মানুষকে তোমার জন্য আমার সাথে যুদ্ধ করতে দেখি, নিজের চোখকে মানাতে পারি না । তুমি বেঁচে থাকতে এরা আসলে কোথায় ছিল, এদের স্বার্থ কি তোমার স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার ঝাল আমার উপর মেটানোর। কখনো তো দেখিনি আমাদের সংসারে এদের। তুমি জানো, তোমার চলে যাওয়ায় কত মানুষ জীবিকার পথ খুঁজে পেয়েছিলো? তোমাকে আর তোমার ভালবাসার সন্তানকে বেচে ডলারের মুখ দেখেছিল! এখনো দেখছে। আমি নিশ্চিত তুমি বেঁচে থাকলে এদের একহাত দেখে নিতে। তোমার সন্তানের প্রতি করুণা দেখানোর দায়ে এদের ধুয়ে দিতে।
ইকলি, আমাদের বন্ধুত্ব আমার খুব প্রিয় ছিল। তাই বন্ধুর কাছে সরি বলতেই পারি। নিজেকে সামলাচ্ছি, আমার পরিবারকে সামলাচ্ছি, রিযিককে সামলাচ্ছি, তোমার আমানতকে একটা সুন্দর জীবন দেওয়ার চেষ্টা করছি, এই জন্য পারলে মাফ করে দিও।
নামাযের বিছানায় মোনাজাতে তুমি আমার প্রথম সারিতেই থাকো। তুমি বেঁচে থাকবে আমার মধ্যে, আমার সন্তানের মা হয়ে। একশত একটা অভিমান তোমার প্রতি, তবুও কোন ক্লেশ নেই। দেখা হবেই তোমার সাথে, মিস নাই। বাকী আড্ডা সেদিনের জন্য রেখে দিলাম। অভিমানটাও।
যেখানেই থাকো, ভালো থাকো আর আমাদের দেখে রাইখো, বিশেষ করে আমাদের রিযিককে। কালকে অনেকগুলো রিযিক তোমার নামে কুরআন তেলাওয়াত করবে, তোমার জন্য দু’আ করবে। তুমি ভাগ্যবতী। নিঃসন্দেহে আল্লাহ’র প্রিয় বান্দা।
শুভজন্মদিন।’
জা. অর্থনীতি/এআর