জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক:
রাতে ঘুমানোর সময় বা টেবিলে কাজ করার সময় ফোনটি পাশে রেখে নিশ্চিন্ত মনে ভাবছেন কোনো সমস্যা নেই? গবেষণায় উঠে এসেছে ভয়াবহ এক সত্য! হাত বাড়ালেই থাকা আপনার এই স্মার্টফোনের বন্ধ ক্যামেরাই এখন আন্তর্জাতিক হ্যাকার সিন্ডিকেটের সবচেয়ে গোপন টেলিস্কোপ। ফোন লক থাকলেও কীভাবে হ্যাকাররা আপনাকে সারাক্ষণ মনিটর করছে? দেখুন এই রিপোর্টে!
আমাদের নিত্যদিনের ছায়ার মতো সঙ্গী স্মার্টফোনটিকে আমরা সব জায়গায় সাথে রাখি-বিছানার পাশে, ওয়াশরুমে, কিংবা যেকোনো একান্ত ব্যক্তিগত বৈঠকে। কিন্তু অনুসন্ধানী নজরদারিতে বেরিয়ে এসেছে এক শিউরে ওঠার মতো বাস্তবতা। আপনার ব্যবহৃত এই ফোনটি কেবল একটি যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং আপনার পার্সোনাল স্পেসের ভেতরে হ্যাকারদের বসানো একটি পূর্ণাঙ্গ সার্ভেইলেন্স ডিভাইস। ফোনটি আপনার ঠিক পাশেই পড়ে আছে, আর ওপাশ থেকে অলক্ষ্যে চোখ রাখছে কোনো সাইবার অপরাধী।
স্মার্টফোনে ব্যাকগ্রাউন্ড ক্যামেরা হ্যাকিংয়ের আধুনিক কৌশলগুলো আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে জটিল। পূর্বে ম্যালওয়্যার চালনার জন্য অ্যাপ ওপেন করার প্রয়োজন হতো, কিন্তু বর্তমানে 'জিরো-ক্লিক স্পাইওয়্যার' সাইবার অপরাধীদের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এই ধরনের অদৃশ্য পেলোডগুলো কোনো পারমিশন পপ-আপ কিংবা ব্যবহারকারীর ইন্টারঅ্যাকশন ছাড়াই সিস্টেম কার্নেলে প্রবেশ করে। আপনার ফোন যখন ডেস্কে স্ক্রিন লক অবস্থায় 'আইডল' বা অলস পড়ে থাকে, তখন এই স্পাইওয়্যার গোপনে ক্যামেরা সেন্সর সক্রিয় করে তোলে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শুধু সাধারণ অ্যাপ নয়, সোশ্যাল মিডিয়া বা থার্ড-পার্টি কাস্টম উইজেটগুলোকে এনক্রিপ্টেড ব্যাকডোর হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আপনার অজান্তেই ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্যাক-প্রসেস মেমোরি ব্যবহার করে ফ্রন্ট বা ব্যাক ক্যামেরা দিয়ে র্যান্ডম স্ন্যাপশট ও শর্ট ভিডিও ক্লিপ রেকর্ড করা হয়। যেহেতু প্রসেসটি অত্যন্ত কম ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করে সাইবার ক্লাউডে তথ্য আপডেট করে, তাই আপনার ব্যবহৃত মোবাইল ডেটা বা ওয়াই-ফাই ট্রাফিকে হুট করে কোনো অস্বাভাবিকতাও চোখে পড়ে না।
সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলগুলোর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হ্যাকাররা এভাবে সংগৃহীত ছবি ও অডিও কেবল ব্যক্তির ব্ল্যাকমেইলিংয়ের জন্য ব্যবহার করে না; বরং এগুলোকে 'প্রোফাইল মেটাডেটা' হিসেবে ডার্ক ওয়েব ফোরামে বিক্রি করে দেওয়া হয়। আপনি ঘরের ভেতর কী পোশাক পরছেন, কার সাথে সময় কাটাচ্ছেন কিংবা ব্যক্তিগত কোনো মুহূর্ত-সবকিছুই এনকোডেড প্যাকেটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অ্যালগরিদমে ক্যাটালগ হয়ে জমা হচ্ছে অসাধু চক্রের ডাটাবেজে।
পকেটে বা পাশে রাখা এই ফোনকে স্পাইিং টুল হওয়া থেকে কীভাবে আটকাবেন?
প্রথমত, রাতে ঘুমানোর সময় বা একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তে ফোনের ফ্রন্ট লেন্স টেবিল বা বিছানার দিকে (Face-Down) ব্যাক করে রাখুন অথবা লেন্সে ছোট প্রাইভেসি স্টিকার ব্যবহার করুন।
দ্বিতীয়ত, ফোনের প্রাইভেসি ড্যাশবোর্ডে গিয়ে নিয়মিত চেক করুন কোন অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোনের এক্সেস নিচে।
তৃতীয়ত, অপ্রয়োজনীয় ও থার্ড-পার্টি সোর্স থেকে এপিকে ফাইল বা অ্যাপ ইনস্টলেশন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখুন।
এবং চতুর্থত, সংবেদনশীল কাজের সময় ফোনের সেলুলার ডেটা ও ওয়াই-ফাই সাময়িকভাবে বন্ধ করে রাখুন যাতে কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড আপলোডিং না হতে পারে।
স্মার্টফোন জীবনকে সহজ করেছে সত্যি, কিন্তু সতর্ক না থাকলে এটিই হয়ে উঠতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি। পাশেই শুইয়ে রাখা ফোনটি আপনার সুরক্ষাদাতা নাকি গোপন নজরদারির এজেন্ট—সেটি নির্ধারণ করবে আপনার প্রযুক্তিগত সচেতনতা। আজই নিজের ফোনের নিরাপত্তা সেটিং যাচাই করুন।
ফোন পাশে রাখলেই বিপদ? ক্যামেরায় চোখ হ্যাকারদের!
পাশে রাখা ফোনের স্ক্রিন বন্ধ মানেই কি আপনি সেফ? মোটেও না! জিরো-ক্লিক স্পাইওয়্যার দিয়ে স্ক্রিন অফ থাকা অবস্থাতেও ফোনের ক্যামেরা ব্যাকগ্রাউন্ডে আপনাকে স্ন্যাপ করতে পারে। অদৃশ্য হ্যাকাররা আপনার ঘরের ভেতরের দৃশ্য রেকর্ড করে সরাসরি এনক্রিপ্টেড ক্লাউডে পাঠিয়ে দিচ্ছে। আপনি কিছু টের পাওয়ার আগেই আপনার প্রাইভেট মোমেন্ট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে সাইবার ব্ল্যাকমার্কেটে! ব্যক্তিগত মুহূর্তে ফোন সবসময় ফেস-ডাউন করে রাখুন, ক্যামেরা পারমিশন চেক করুন এবং নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে ভিডিওটি শেয়ার করুন!
—জা. অর্থনীতি/এলএটি