ব্যাংককে জনপ্রিয় নৌযান, ঢাকায় কেন হারাচ্ছে নৌপথ? (ভিডিও)
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: রাজধানীর ভয়াবহ যানজট এড়িয়ে যদি আপনি অল্প সময়েই পৌঁছে যেতে পারেন গন্তব্যে, তাহলে কেমন হয়? ব্যাংককে এই সুবিধা মিলছে শহরের খাল আর নদীপথেই। যাত্রীতে ঠাসা নৌযানে প্রতিদিন চলাচল করছেন স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে পর্যটকেরা। কোথাও চলছে বিদ্যুৎচালিত বোট, কোথাও ওয়াটার বাস।

অথচ ঢাকার চারপাশের নৌপথ ভরাট আর দূষণে হারাচ্ছে তার কার্যকারিতা। প্রশ্ন উঠছে-ব্যাংকক পারলে ঢাকা কেন পারবে না?

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শহরের ভেতরের খালগুলো স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘ক্লং”   নামে। এসব খালকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে যাত্রী পরিবহনের কার্যকর ব্যবস্থা।

প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নৌপথে প্রতিদিন চলাচল করে প্রায় ১০০টি বোট। রয়েছে ২৭টি ঘাট। দুটি লাইনে পরিচালিত এই সেবা প্রাতুনাম থেকে ওল্ড টাউনসহ অন্যান্য গন্তব্যে যাতায়াতের সুযোগ করে দেয়। দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়া  ৮ থেকে ২০ বাথ।

এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে যেতে সময় লাগে মাত্র ৮ থেকে ১০ মিনিট। প্রতিটি বোটেই যাত্রীদের ভিড়। রাস্তার যানজট এড়িয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে এই সুবিধা নিচ্ছেন যাত্রীরা।

ব্যাংককের নৌপরিবহন ব্যবস্থার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো বিদ্যুৎচালিত বোট। যানজটের চাপ কমানোর পাশাপাশি শব্দ ও বায়ুদূষণ কমাতেও নেওয়া হয়েছে উদ্যোগ।

ব্যাংকক মেট্রোপলিটন প্রশাসন ও বেসরকারি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে বৈদ্যুতিক শাটল বোট।

বোটের ছাদে বসানো সোলার প্যানেল সূর্যের আলো থেকে শক্তি নিয়ে ব্যাটারি চার্জে সহায়তা করে। পাশাপাশি টার্মিনালে প্লাগ-ইন ব্যবস্থায় চার্জ দেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন প্রায় ৬৫ শতাংশ কমেছে।

রুটভেদে ছোট বোটে ৬ থেকে ৮ জন এবং বড় বোটে ৩০ থেকে ৪০ জন যাত্রী চলাচল করতে পারেন। কিছু বোটে রয়েছে হুইলচেয়ার রাখার ব্যবস্থাও।

ব্যাংককের এই চিত্রের বিপরীতে ঢাকার চারপাশের নৌপথের অবস্থা ভিন্ন। খাল ভরাট ও দূষণের কারণে ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে নৌপথের ব্যবহার।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকার নৌপথ দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর বিদ্যুৎচালিত ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে সাড়া মেলেনি।

নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া জানিয়েছেন, ঢাকার চারপাশে বিদ্যুৎচালিত নৌযান চালুর জন্য বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানিকে আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু কেউ আগ্রহ দেখায়নি।

এ জন্য অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন-বিআইডব্লিউটিসিকে একটি প্রস্তাবনা নৌ মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।

ব্যাংকক দেখিয়েছে, শহরের খাল ও নদীপথকে সচল রেখে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা সম্ভব। সেখানে নির্দিষ্ট রুট, ঘাট, নিয়মিত নৌযান এবং দ্রুত যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা একসঙ্গে কাজ করছে।

ঢাকার ক্ষেত্রেও নৌপথ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু ভরাট ও দূষণে হারিয়ে যাওয়া নৌপথকে কার্যকরভাবে ফিরিয়ে আনা এবং উপযুক্ত নৌযানসেবা চালু করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি