মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমীতে কুমারী পূজা। এই দিনে ‘মাকে দর্শন করুন ও মায়ের কৃপা লাভ করুন’- এই আহ্বানে আজ সকাল থেকেই মৌলভীবাজারের রাজনগরের শ্রী শ্রী বিষ্ণুপদ ধাম, তারাপাশা মন্দির প্রাঙ্গণ ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে।
শারদীয় দুর্গাপূজার সবচেয়ে পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ পর্বগুলোর একটি হলো কুমারী পূজা। মহাষ্টমীর এই পবিত্র তিথিতে দেবী দুর্গাকে কুমারী রূপে পূজা করার রীতি সনাতন ধর্মে বহু প্রাচীন।
শাস্ত্রমতে, কুমারী মেয়ের মধ্যেই দেবী দুর্গার বিশুদ্ধতম রূপ বিরাজ করে। তাই আজ এই পবিত্র দিনে কুমারী বালিকাকে দেবী জ্ঞানে পূজা করে মায়ের কৃপা লাভের আশায় ভক্তরা ভিড় জমিয়েছেন বিষ্ণুপদ গ্রামে ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সরেজমিনে শ্রী শ্রী বিষ্ণুপদ ধামে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের দীর্ঘ লাইন। ঢাকের তাল, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখরিত চারপাশ। মন্দির কর্তৃপক্ষের আয়োজনে ফুল, আল্পনা আর আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে পুরো মন্দির।
মন্দিরের পুরোহিত জানান, কুমারী পূজার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। দেবী পুরাণ অনুসারে, কুমারী পূজার মাধ্যমে নারী শক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়। ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী কুমারী কন্যাকে বিভিন্ন নামে পূজা করা হয়। যেমন এক বছরের কন্যা সন্ধ্যা, দুই বছরের সরস্বতী, তিন বছরের ত্রিধামূর্তি — এভাবে পূজা করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, কুমারী পূজা করলে ভক্তের সকল মনোবাসনা পূর্ণ হয় এবং মা দুর্গার আশীর্বাদ লাভ হয়।
আজকের পূজায় বিষ্ণুপদ গ্রামে ৯ বছর বয়সী এক কুমারী কন্যাকে দেবী দুর্গা রূপে সাজিয়ে পূজা করা হয়। লাল শাড়ি, আলতা, চন্দন আর ফুলের মালায় সজ্জিত কুমারীকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন সাক্ষাৎ মা দুর্গা মর্ত্যে অবতীর্ণ হয়েছেন। ভক্তরা একে একে কুমারী মায়ের চরণে ফুল, বেলপাতা ও প্রণামী নিবেদন করেন।
এক ভক্ত রাধা রানী দেবী বলেন, প্রতি বছর আমি কুমারী পূজা দেখতে আসি। কুমারী মায়ের মুখ দেখলে মনে হয় সব পাপ দূর হয়ে যায়। মায়ের কাছে প্রার্থনা করি, দেশে যেন শান্তি থাকে, সবার মঙ্গল হয়।
মন্দির কমিটির সভাপতি জানান, শ্রী শ্রী বিষ্ণুপদ ধাম, শুধু একটি মন্দির নয়, এটি এই অঞ্চলের হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির প্রতীক। প্রতি বছর দুর্গাপূজায় এখানে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়। কুমারী পূজা উপলক্ষে আমরা বিশেষ নিরাপত্তা ও ভোগ প্রসাদের ব্যবস্থা করেছি।
জানা গেছে, আজকের কুমারী পূজা শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হবে এবং সন্ধ্যায় থাকবে বিশেষ আরতি ও ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
উল্লেখ্য, শ্রী শ্রী বিষ্ণুপদ গ্রামে তারাপাশা, রাজনগর মৌলভীবাজার জেলার অন্যতম প্রাচীন ও জাগ্রত মন্দির হিসেবে পরিচিত।
কথিত আছে, এখানে বিষ্ণুর পদচিহ্ন রয়েছে। তাই সারা বছরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা এখানে আসেন। তবে দুর্গাপূজা ও কুমারী পূজার সময় এই মন্দিরে ভক্তের ঢল নামে।
—জা. অর্থনীতি/এনজে
