ফিচার ডেস্ক: আলফ্রেড নোবেলের মূল উইলে ছিল না অর্থনীতির নাম। সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে ১৯৬৮ সালে প্রবর্তিত হয় এই পুরস্কার, যা প্রথম দেওয়া হয় ১৯৬৯ সালে। নোবেল পুরস্কার মানেই বিজ্ঞান, সাহিত্য, শান্তি ও মানবকল্যাণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তি— এই পাঁচটি বিভাগ নিয়ে ১৯০১ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল নোবেল পুরস্কারের। তবে সময়ের সঙ্গে এই তালিকায় যুক্ত হয় আরেকটি বিভাগ-অর্থনীতি। কিন্তু কীভাবে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত হলো অর্থনীতি, যার নামই ছিল না আলফ্রেড নোবেলের মূল উইলে?
এর পেছনে রয়েছে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি বিশেষ উদ্যোগ। ১৮৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর নিজের শেষ উইলে সুইডিশ বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেল তার সম্পদের সিংহভাগ দিয়ে একটি তহবিল গঠনের নির্দেশ দেন। সেই তহবিলের আয় থেকে প্রতিবছর মানবজাতির কল্যাণে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তার নির্ধারিত পাঁচটি ক্ষেত্র ছিল পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, শারীরবিদ্যা বা চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তি। ১৮৯৬ সালে নোবেলের মৃত্যুর পর তার ইচ্ছা অনুযায়ী ১৯০১ সালে পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়।
এর প্রায় সাত দশক পর, ১৯৬৮ সালে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হয়। সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেভেরিজেস রিক্সব্যাংক তাদের ৩০০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে একটি পুরস্কার প্রবর্তনের উদ্যোগ নেয়। ব্যাংকটি পুরস্কারের জন্য অর্থায়নের ব্যবস্থা করে এবং নোবেল ফাউন্ডেশনের পরিচালন কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করে। এভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয় ‘আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে সেভেরিজেস রিক্সব্যাংক পুরস্কার’। প্রচলিতভাবে এটি অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার নামে পরিচিত।
১৯৬৯ সালে প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার দেওয়া হয়। যৌথভাবে পুরস্কার পান নরওয়ের অর্থনীতিবিদ রাগনার ফ্রিশ ও নেদারল্যান্ডসের অর্থনীতিবিদ ইয়ান টিনবার্গেন। অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া বিশ্লেষণে গতিশীল মডেল তৈরি ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাদের অবদানের জন্য এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
অর্থনীতিতে এই পুরস্কার যুক্ত হওয়ার ফলে অর্থনৈতিক গবেষণা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বেশি গুরুত্ব পায়। দারিদ্র্য, বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, বাজারব্যবস্থা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো বিষয় নিয়ে গবেষণা নতুনভাবে আলোচনায় আসে। এসব গবেষণা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান বাড়ায় না, অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনাকেও প্রভাবিত করে।
তবে অর্থনীতির পুরস্কারটি আলফ্রেড নোবেলের মূল উইলে নির্ধারিত পাঁচটি পুরস্কারের মতো একই উৎস থেকে প্রতিষ্ঠিত নয়। এই পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে এর মর্যাদা ও গুরুত্ব ব্যাপক। নোবেলের মূল পরিকল্পনায় না থাকলেও অর্থনীতি আজ তার নামের সঙ্গে যুক্ত পুরস্কারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।