জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: পকেটের ভেতর হাত রেখে হাঁটাচলা করছেন বা টেবিলে বসে আছেন, ভাবছেন ফোন তো জামা বা পকেটের আড়ালে রয়েছে? অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, সাইবার অপরাধীরা এখন এই পকেটে থাকা ফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করেই চালু করছে সরাসরি লাইভ সম্প্রচার! কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পকেটের ফোন থেকে এই লাইভ স্ট্রিম চালানো হচ্ছে? উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য!
স্মার্টফোনকে আমরা এখন আর কেবল যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করি না, এটি আমাদের শরীরের অঙ্গের মতো পকেটে বা ব্যাগে সবসময় ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু সাইবার অপরাধ জগতে সম্প্রতি পরিচালিত একটি গভীর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আপনার পকেটে চুপচাপ পেড়ে থাকা এই স্মার্টফোনটিই হয়ে উঠছে এক একটি পোর্টেবল ব্রডকাস্টিং স্টেশন। ফোনটি পকেটের ভেতরে থাকা সত্ত্বেও বা ডিসপ্লে পুরোপুরি অফ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তা সরাসরি হ্যাকারদের সার্ভারে রিয়েল-টাইম লাইভ ফিড পাঠাচ্ছে?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ক্ষতিকারক ট্রোজান এবং 'জিরো-ক্লিক এক্সপ্লয়েট' ম্যালওয়্যারগুলো ফোনের সেন্সর ড্রাইভারগুলোকে নতুনভাবে কাস্টমাইজ করে নেয়। সাধারণত পকেটে ফোন রাখলে 'প্রক্সিমিটি সেন্সর' বা 'লাইক সেন্সর' ধরে নেয় ডিভাইসটি কাপড়ের আড়ালে অন্ধকারে আছে এবং স্ক্রিন ও স্পর্শজনিত ফাংশন লক করে দেয়। কিন্তু হ্যাকারদের ডেভেলপ করা ম্যালওয়্যার এই সেন্সরের সিগন্যাল বাইপাস করে ব্যাকগ্রাউন্ডে ক্যামেরা অন রাখে এবং নেটওয়ার্ক লাইনের পোর্টিং ব্যবহার করে স্ট্রিম চালু রাখে।
পকেটের ভেতর থেকে কী দেখা সম্ভব? অনুসন্ধান বলছে, জিন্স বা শার্টের পকেট, লেডিস হ্যান্ডব্যাগ কিংবা সাইড ব্যাগের ছোট ছিদ্র বা জিপারের ফাঁকফোকর দিয়ে বাইরে আসা সামান্য আলো ও দৃশ্যই হ্যাকারদের অ্যালগরিদমের জন্য যথেষ্ট। তারা 'ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল লেন্স এনহ্যান্সমেন্ট' এবং হাই-সেন্সিটিভিটি আইআর মোড ব্যবহার করে অল্প আলোতেও স্পষ্ট ভিজ্যুয়াল ডাটা তুলে নেয়। এর সাথে যুক্ত হয় অতি সূক্ষ্ম অডিও স্ট্রিম, যা পকেটের ভেতর থেকেই ঘরের বা চারপাশের সমস্ত কথাবার্তা ক্রিস্টাল ক্লিয়ার ক্যাপচার করে হ্যাকার ড্যাশবোর্ডে পাঠাতে থাকে।
সাইবার ট্র্যাকিং ল্যাবগুলোর রিপোর্টে দেখা গেছে, পকেটের ফোনের এই লাইভ স্ট্রিমগুলো সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় করপোরেট স্পাইং, রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং এবং ব্লেকমেইলিংয়ের ভিত্তি তৈরিতে। আপনি কোথায় যাচ্ছেন, কার সাথে দেখা করছেন, কিংবা ব্যক্তিগত বন্ধ দরজার পেছনে কী কথা বলছেন—তার প্রতিটি সেকেন্ডের বিবরণ আন্তর্জাতিক হ্যাকার নেটওয়ার্কে পৌঁছে যাচ্ছে লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে।
এই অদৃশ্য ও ছদ্মবেশী পকেট স্ট্রিমিং থেকে রেহাই পাওয়ার উপায়গুলো কী?
প্রথমত, ফোনের প্রসেসর ইউসেজ এবং ডাটা কনজাম্পশন অপশনে নিয়মিত চোখ রাখুন। ব্যাকগ্রাউন্ডে অতিরিক্ত ব্যাক-প্রসেস মোড চালু থাকলে তা রিমোট স্ট্রিমিংয়ের সংকেত হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, 'প্রাইভেসি ড্যাশবোর্ড' অন রেখে ক্যামেরা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সিস্টেম পারমিশন কেবল "While using the app" মোডে সেট করে রাখুন।
তৃতীয়ত, ফিজিক্যাল স্লাইডার বা ক্যাম-স্টিকার ব্যবহার করতে পারেন, যা লেন্সে আলো ঢুকতে শতভাগ বাধা দেবে।
এবং চতুর্থত, পকেটে থাকা অবস্থায় ফোনটি অপ্রত্যাশিতভাবে গরম হতে থাকলে দ্রুত ডিভাইস রিবুট বা রিস্টার্ট দিয়ে নেটওয়ার্ক ডাটা কানেকশন অফ করুন।
প্রযুক্তি আমাদের পকেটে স্থান পেয়েছে সুবিধার জন্য, আমাদের ব্যক্তিগত জীবন উন্মুক্ত করার জন্য নয়। সতর্ক না হলে পকেটে থাকা এই ছোট যন্ত্রটিই আপনার পুরো নিরাপত্তার ভিত ধসিয়ে দিতে পারে। প্রযুক্তির সুবিধা নিন, তবে নিরাপত্তাকে সবসময় এক ধাপ এগিয়ে রাখুন।
পকেটের ফোন থেকে সরাসরি হ্যাকারদের লাইভ স্ট্রিমিং?
ফোন পকেটে নিরাপদে আছে ভেবে ভুল করবেন না! আধুনিক স্পাইওয়্যার এখন পকেটে থাকা লেন্স ব্যবহার করেই চালাচ্ছে সরাসরি লাইভ স্ট্রিমিং! পকেটের কাপড়ের ফাঁকফোকর কিংবা ব্যাগের লিক দিয়ে পাওয়া আলো থেকেই ব্যাকগ্রাউন্ড ম্যালওয়্যার রিয়েল-টাইমে অডিও ও ভিডিও ফাইল সাইবার ড্যাশবোর্ডে লাইভ সম্প্রচার করে দিচ্ছে। আপনার অজান্তেই ফাঁস হচ্ছে ঘরের সব কথা! ব্যাকগ্রাউন্ড ক্যামেরা পারমিশন বন্ধ রাখুন, নিয়মিত প্রাইভেসি চেক করুন এবং সুরক্ষার স্বার্থে এই তথ্যটি সবার সাথে শেয়ার করুন!
—জা. অর্থনীতি/এলএটি