ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ (ভিডিও)
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে উত্তাল দেশের পোশাকশিল্পাঞ্চল! রাজধানীর মিরপুর থেকে সাভারের আশুলিয়া, আর গাজীপুরের কালিয়াকৈর-বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও ভাঙচুরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কোথাও কারখানায় হামলা, কোথাও মহাসড়কে আগুন, আবার কোথাও পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে আশুলিয়ার অন্তত ৩০টি পোশাক কারখানায় ঘোষণা করা হয়েছে সাধারণ ছুটি।

শ্রমিকদের দাবির মুখে আজ থেকেই মজুরি বোর্ড গঠনের কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী। কিন্তু সেই ঘোষণার পরও কেন থামেনি শ্রমিক অসন্তোষ?

 

শনিবার সকাল থেকেই মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাজধানীর মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বর এবং প্রশিকা মোড় এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন পোশাকশ্রমিকরা। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয়, তৈরি হয় তীব্র যানজট। দুপুর আড়াইটার দিকে মিরপুর-১০ গোলচত্বর থেকে শ্রমিকরা সরে গেলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ছড়িয়ে পড়েন মিরপুর-১ নম্বরের মাজারসংলগ্ন বাজার ও বিভিন্ন মার্কেট এলাকায়।

দুপুর ২টা ৫ মিনিটের দিকে হিমালয় গার্মেন্টসের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় মিরপুর-১০ থেকে আসা প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ জন শ্রমিক হিমালয় গার্মেন্টস ও পাশের বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুর চালান। পরে মল্লিক টাওয়ারেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকরা। পরে আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানার শ্রমিক এতে যোগ দেন।

মহাসড়কে মাটিভর্তি বস্তা, কাঠ ও বাঁশ ফেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রমিকদের সরানোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। অন্যদিকে, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন আন্দোলনকারীরা।

এছাড়া আশুলিয়াতেও বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। নিশ্চিন্তপুরের নিউ এইজ অ্যাপারেলস ও নিউ এইজ গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি, কালোতালিকা প্রথা বন্ধ এবং শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবি জানান। পরে আল-মুসলিম, কন্টিনেন্টাল, এআর জিন্স, নাঈম সোয়েটার, এফএনএফ গার্মেন্টস ও টাউজার লাইনসহ বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরাও আন্দোলনে যোগ দেন।

নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে শিল্প পুলিশের অন্তত পাঁচ সদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। আহত হন কয়েকজন শ্রমিকও।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাঠগড়া ও আশপাশের অন্তত ৩০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

এদিকে, শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

শুক্রবার রাতে শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি জানান, আজ রবিবার থেকে মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণের পাশাপাশি শিল্পকারখানাও রক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এখন দেখার বিষয়, নতুন মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হলে শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি কতটা গুরুত্ব পায় এবং কবে নাগাদ শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি