আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোতকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছে দেশটির আরব দলগুলোর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক মোর্চা ‘জয়েন্ট লিস্ট পার্টি’। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে জোটটি নিশ্চিত করেছে যে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে তারা প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য আইজেনকোতের নাম প্রস্তাব করবে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তুলনায় আইজেনকোত আগে থেকেই আইনপ্রণেতাদের সমর্থনে এগিয়ে ছিলেন; আর এবার আরব দলগুলোর পূর্ণ সমর্থন পাওয়ায় পার্লামেন্টে তাঁর পক্ষে সমর্থনকারী সংসদ সদস্যের মোট সংখ্যা দাঁড়াল ৬৭ জনে।
জয়েন্ট লিস্টের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মোর্চায় থাকা তিনটি দলই সর্বসম্মতিক্রমে আইজেনকোতকে সমর্থন করার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মূলত প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর জোট যাতে পুনরায় সরকার গঠন করতে না পারে, সাধারণ মানুষের সেই জোরালো দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই আরব দলগুলো এই অবস্থান নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর জয়েন্ট লিস্টের প্রতিনিধিরা প্রেসিডেন্ট ভবনে গিয়ে আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে আইজেনকোতের নাম উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট ১২০টি আসনের মধ্যে কোনো দল বা মোর্চাকে সরকার গঠন করতে হলে অন্তত ৬১টি আসনের সুস্পষ্ট সমর্থনের প্রয়োজন হয়। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে কোনো একক দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই জোট সরকার গঠনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। আরব দলগুলোর দেওয়া এই নতুন সমর্থনের ফলে আইজেনকোতের পাল্লা উল্লেখযোগ্যভাবে ভারী হয়েছে এবং তিনি প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সীমা ছাড়িয়ে গেছেন।
তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকোতকে সমর্থন দিলেও আরব দলগুলো সরাসরি তাঁর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় বা সরকারে অংশ নেবে কি না, তা নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গাদি আইজেনকোত যদি আরব দলগুলোকে সাথে নিয়ে জোট গঠন করেন, তবে তিনি এখনই অনায়াসে সরকার গঠন করতে পারবেন। কিন্তু আইজেনকোতের বলয়ে থাকা অন্যান্য মিত্র দলগুলো সরকারের ভেতর আরব দলগুলোর প্রত্যক্ষ অংশীদারিত্বের তীব্র বিরোধিতা করায় নতুন প্রশাসন গঠনের এই প্রক্রিয়া এখনো বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও দরকষাকষির মুখে রয়েছে।
জেএ/অভি
