বিনোদন প্রতিবেদক: দেশীয় চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা পূজা চেরির বাবা দেব প্রসাদ রায়কে প্রতারণা ও বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এবার এ নিয়ে মুখ খুললেন পূজা চেরি। বাবাকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে দিয়েছেন ব্যাখ্যাও। তিনি জানিয়েছেন, বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বা পেশাগত কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে পূজা চেরি জানান, সম্প্রতি তার বাবা দেব প্রসাদ রায়ের গ্রেফতার এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে অসংখ্য ফোন কল ও বার্তা পাচ্ছেন তিনি। বিভ্রান্তি এড়াতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতেই এই বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানান অভিনেত্রী। তিনি জানান, বাবার বিরুদ্ধে ওঠা কোনো অভিযোগ বা আর্থিক লেনদেনের সাথে ব্যক্তিগতভাবে তার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই।
পূজা চেরি বলেন, ‘বিগত ১০-১২ বছর ধরে আমি মিডিয়াতে কাজ করছি। অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার ও জীবনযাপনের খরচ সম্পূর্ণভাবে আমি নিজেই নির্বাহ করে আসছি। বাবার কোনো ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা আর্থিক লেনদেনের সাথে আমার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই।’
বর্তমানে কোনো প্রোডাকশন হাউজ বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় নেই উল্লেখ করে পূজা আরও বলেন, ‘একজন শিল্পী হিসেবে আমি সবসময় দর্শকদের ভালোবাসা এবং সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছি। পরিবারের সদস্য হওয়ার সূত্রে উদ্ভূত এই পরিস্থিতি আমার জন্য মানসিকভাবে অত্যন্ত কষ্টদায়ক।’
তার ভাষায়, ‘তবে এটি একান্তই তার ব্যক্তিগত আইনি বিষয়। আমি আশা করি, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং সত্য উদঘাটিত হবে। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে, বিষয়টি বিজ্ঞ আদালত দেখবেন এবং সিদ্ধান্ত নিবেন।’
এদিকে, আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় গত ১৮ এপ্রিল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে, ওই দিনই ভুক্তভোগী মিজানুর রহমানের ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা দায়ের করেন। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ। পরে আদালত এ আদেশ দেন।
অন্যদিকে, মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলচ্চিত্র প্রযোজনার ব্যবসার কথা বলে ভুক্তভোগী ও তার বন্ধু মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন পশ্চিম মাটিকাটার বাসায় এসে দেবু প্রসাদ রায় নগদ ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ধার হিসেবে গ্রহণ করেন। পরে একই ব্যবসার কথা বলে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের মাধ্যমে আরও ৫০ লাখ এবং ২০২৪ সালের ১৫ মে ১০০ টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প সম্পাদনের মাধ্যমে নগদ ৬ কোটি টাকা গ্রহণ করেন।
এ ছাড়া, বিভিন্ন সময়ে বিকাশ, নগদ ও রকেটের একাধিক নম্বরে মোট ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পাঠানো হয়। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ বিকেল ৩টার দিকে অভিযুক্তের অনুরোধে আরও ১০ হাজার ২০০ টাকা বিকাশে পাঠান তিনি। ভুক্তভোগীর দাবি, দীর্ঘদিন পার হলেও অভিযুক্ত কোনো টাকা ফেরত দেননি। টাকা চাইলে নানা ধরনের তালবাহানা করেন এবং পরে হুমকি দিতে থাকেন। এতে তার সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে মোট ১৩ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে গতকাল শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলমান এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
—জা. অর্থনীতি/এনএ