ক্রীড়া ডেস্ক: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়াসহ মোট সাতজন আইনজীবী এই রিটটি দাখিল করেন। আবেদনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক গঠিত এই অন্তর্বর্তীকালীন কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করার জন্য আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এই আইনি পদক্ষেপের ফলে দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল।
রিট আবেদনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক এবং বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে। রিটকারীদের দাবি, একটি নির্বাচিত কমিটিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভেঙে দিয়ে এই অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁদের মতে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এই সিদ্ধান্তটি আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই গ্রহণ করা হয়েছে, যা বিসিবির স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থী।
আবেদনের যুক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত বছরের ৬ অক্টোবর বিসিবির কার্যনির্বাহী কমিটি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল এবং তাঁরা নির্ধারিত মেয়াদে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) আইনের বিশেষ ধারা প্রয়োগ করে ওই নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত করে দেয়। কোনো সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ ছাড়াই নির্বাচিত বোর্ডকে সরিয়ে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করাকে রিটে অযৌক্তিক এবং আইনবহির্ভূত হিসেবে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিয়ে গত ৭ এপ্রিল জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে প্রধান করে এই ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তিন মাস মেয়াদী এই কমিটিতে মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আতহার আলী খান, রাশনা ইমাম এবং ফাহিম সিনহাসহ আরও বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে রাখা হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জানিয়েছিল, একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিসিবির সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় সাময়িকভাবে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বর্তমানে হাইকোর্টের এই রিট আবেদনের ওপর শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন। আদালতের সিদ্ধান্ত যদি রিটকারীদের পক্ষে যায়, তবে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচিত বোর্ডের সাবেক সদস্যদের পক্ষ থেকে এমন আইনি পদক্ষেপ বিসিবির ভবিষ্যৎ নির্বাচন ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতাকে নতুন করে জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আদালতের পরবর্তী শুনানির ওপরই এখন বিসিবির ভাগ্য ঝুলে রইল।
জেএ/অভি