ইংলিশ কাউন্টির আদলে এনসিএল

ক্রীড়া ডেস্ক: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন তামিম ইকবাল। তিনি জানিয়েছেন, ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটের আদলে এখন থেকে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) প্রতিটি বিভাগের জন্য একটি ‘দ্বিতীয় একাদশ’ গঠন করা হবে। এই মৌসুম থেকেই মূল দলের পাশাপাশি দ্বিতীয় একাদশগুলো তিন দিনের একটি বিশেষ টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। এর মাধ্যমে ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিধি ও খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই নতুন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে তামিম জানান, বর্তমানে কেবল জাতীয় দলের আশেপাশে থাকা কিছু খেলোয়াড়ই অধিকাংশ টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পান। কিন্তু দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিভাগের অসংখ্য প্রতিভাবান খেলোয়াড় পর্যাপ্ত প্ল্যাটফর্মের অভাবে নিয়মিত ক্রিকেটের বাইরে থেকে যাচ্ছেন। প্রতিটি বিভাগের দ্বিতীয় একাদশ গঠিত হলে আরও প্রায় ২০০ ক্রিকেটার নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের মধ্যে থাকবেন এবং সেখানে ভালো পারফর্ম করলে মূল দলে উঠে আসার সুযোগ তৈরি হবে। এ ছাড়া জাতীয় লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতে পুনরায় ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ পদ্ধতি চালু করার বিষয়েও বোর্ড নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন বিসিবি সভাপতি। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের সাধারণ গ্যালারিতে দর্শকদের সুবিধার্থে প্রায় ২৭ হাজার স্কয়ার ফিটের একটি বিশাল ছাউনি বা ক্যানোপি বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে স্কোরবোর্ড সংলগ্ন এলাকায় যেখানে সাধারণ দর্শকরা বেশি আসেন, তাদের রোদে পোড়া ও বৃষ্টিতে ভেজার কষ্ট লাঘব করাই এর মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিবেশ রক্ষায় পুরো স্টেডিয়ামকে সৌরবিদ্যুতের (সোলার প্যানেল) আওতায় আনার কাজও শুরু করতে যাচ্ছে বোর্ড।

বিসিবির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং নির্বাচন প্রসঙ্গে তামিম স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তিন মাসের নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যেই তিনি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে চান। আগামী ৩ মে বোর্ড সভার মাধ্যমে নির্বাচনি প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্রক্রিয়া শুরু হলে পরবর্তী ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে। একই সাথে তামিম ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি পরবর্তী নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী হবেন। নির্বাচনের আগে পদত্যাগ করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গঠনতন্ত্র মেনে এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করেই তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন।

সবশেষে সাকিব আল হাসানসহ দেশের তিনজন সাবেক অধিনায়কের ক্রিকেটে ফেরার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তামিম ইকবাল। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, মাশরাফি বিন মর্তুজা ও নাঈমুর রহমান দুর্জয়ও সাকিবের মতো একই রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। বিসিবি তাদের ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট যেকোনো কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকলেও ব্যক্তিগত আইনি সমস্যাগুলো খেলোয়াড়দের নিজেদেরই সমাধান করে আসতে হবে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও এ বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত পাওয়া গেছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে ফিরলে বোর্ড তাদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

জেএ/অভি