ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর জীবিত অবস্থাতেই কংস নদে ফেলে হত্যা করেছে ৪ তরুণ। এদের মধ্যে ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকদের মধ্যে একজন পুলিশের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই শিশুটিকে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে কংস নদের পাড়ে নিয়ে ৪ তরুণ মিলে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে গেলে জীবিত অবস্থাতেই নদে ফেলে চলে যায় তারা।
আটকরা হলো- মারুফ হোসেন (২০), আরিফ হোসেন (১৮) ও রাকিব হাসান (১৯)। তারা সবাই ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের বাসিন্দা।
শিশুটির স্বজনেরা জানান, রোববার (১৪ জুন) বিকেল ৫টার দিকে ধোবাউড়ায় নিজ বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় শিশুটি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শিশুটির বাড়ি থেকে ৫০০ গজ দূরে স্থানীয় লোকজন কংস নদের বাঁকে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত এবং উদ্ধার করেন। রাতেই শিশুটির মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে গোসল করাতে নেওয়া হয়। তখন শিশুটির স্পর্শকাতর স্থানে ক্ষত দেখা যায়। ওই অবস্থায় দাফনের প্রস্তুতি বন্ধ রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে শিশুটি মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার আলামত পাওয়ায় তদন্ত কাজ শুরু করে।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে এলাকায় অভিযান চালিয়ে মারুফ, রাকিব ও আরিফকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে ধোবাউড়া থানায় মামলা করেন।
ময়মনসিংহের সহকারী পুলিশ সুপার (হালুয়াঘাট সার্কেল) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আটক ৩ জনের মধ্যে একজনের ভাষ্য অনুযায়ী ৪ জনই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছে। বাকি ২ জন এখনও কিছু বলছে না। এ ঘটনায় মোট ৩ জন ছিল, বাকি যে যুবক রয়েছে তাকে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছি।
তিনি বলেন, ছোট মেয়েটি সন্ধ্যার দিকে চিপস কিনে বাড়ি ফেরার পথে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে চার তরুণ নিয়ে যায়। পরে নদের পাড়ে জঙ্গলের মতো জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর রক্তক্ষরণ হলে জীবিত অবস্থাতেই শিশুটিকে নদে ফেলে দেয়।
—জা.অর্থনীতি/এনজে