ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুল চিকিৎসায় মাইশা আক্তার (১৪) নামের এক কিশোরী গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত মাইশা জেলার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট পশ্চিমপাড়া এলাকার মো. আশরাফুল মিয়ার স্ত্রী এবং সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের শিলাউর গ্রামের শরিফুল ইসলামের মেয়ে।
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে মাইশাকে রোববার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বেসরকারি ‘মডার্ণ এক্সরে ও প্যাথলজি ক্লিনিকে’ আনা হয়। সেখানে মেডিসিন ও শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পি. বি. রায় সুপ্রিয়ের কাছে তার চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসক মাইশাকে দেখে ব্যবস্থাপত্রে একটি ইনজেকশন ও নেবুলাইজ করার পরামর্শ দেন। এরপর ড. সুপ্রিয়ের সহকারী সুধাংশু ক্লিনিকের ভেতরেই মাইশার শরীরে ইনজেকশনটি পুশ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই মাইশা তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে সহকারী সুধাংশু তড়িঘড়ি করে মাইশাকে পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তির পরামর্শ দিলেও জরুরি বিভাগেই মাইশার মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, ভুল ইনজেকশন ও অবহেলার কারণেই মাইশার মৃত্যু হয়েছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
তবে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক পি. বি. রায় সুপ্রিয় বলেন, "আমি অসুস্থ রোগীকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য ব্যবস্থাপত্র দিয়েছিলাম। তার মৃত্যু সদর হাসপাতালেই হয়েছে।" সহকারী সুধাংশু ওই রোগীকে ইনজেকশন দিয়েছেন বলে তিনি স্বীকার করলেও সেটি তার চেম্বারে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন। ইনজেকশন দেওয়ার সময় অতিরিক্ত ভয় পেয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাইশার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন এই চিকিৎসক।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডাক্তার নোমান মিয়া বলেন, "ঘটনাটি মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত (রোববার বিকেল) কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
—জা. অর্থনীতি/এলএটি