প্রযুক্তির এই যুগে আমরা যখন দিক নির্ধারণের জন্য জিপিএস কিংবা কম্পাসের ওপর নির্ভরশীল, ঠিক তখনই প্রকৃতি আমাদের সামনে হাজির করছে এক অনন্য বিস্ময়। আজ বুধবার (১৫ জুলাই), বিজ্ঞান আর বিশ্বাসের এক অপূর্ব মহাজাগতিক মিলনমেলার সাক্ষী হতে যাচ্ছে পুরো মুসলিম বিশ্ব। একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে সূর্যের আলো ঠিক মাথার ওপর থেকে পড়ায়, কিছু সময়ের জন্য সম্পূর্ণ ছায়াহীন হয়ে পড়বে পবিত্র কাবা শরিফ। আর এই সুযোগে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ কোনো যন্ত্র ছাড়াই শুধু সূর্যের দিকে তাকিয়েই নির্ধারণ করে নিতে পারবেন তাদের প্রার্থনার সঠিক দিক—কিবলা।
জেদ্দা অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, আজ মক্কার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২৬ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডে সূর্য কাবা শরিফের ঠিক ৯০ ডিগ্রি কোণে, অর্থাৎ একেবারে মাথার ওপরে অবস্থান করবে। ঠিক সেই মুহূর্তে বাংলাদেশের ঘড়িতে সময় থাকবে বিকেল ৩টা ২৬ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড।
তখন সূর্যের আলো কাবার ওপর একদম লম্বভাবে পড়বে, ফলে ঐতিহাসিক এই পবিত্র কাঠামোর কোনো ছায়া আর দৃশ্যমান থাকবে না। এই বিশেষ মুহূর্তে পৃথিবীর যে প্রান্তেই সূর্য দেখা যাবে, সেখান থেকে সূর্যের দিকে মুখ করে দাঁড়ালেই মিলবে নিখুঁত কিবলা।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থান এবং সূর্যের আপাত গতিপথের কারণে প্রতি বছর সাধারণত দুইবার—মে মাসের শেষ দিকে এবং জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে—এই বিরল ঘটনা ঘটে। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া পাওয়ার আগে, শত শত বছর ধরে মরুভূমির বুকে মুসলমানরা একটি সোজা কাঠি মাটিতে পুঁতে, এই বিশেষ মুহূর্তের ছায়ার বিপরীত দিক হিসাব করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কিবলা নির্ণয় করতেন।
আজকের এই যান্ত্রিক ব্যস্ততার দিনে দুপুরের এই ছায়াহীন মুহূর্তটি যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতির এক অদ্ভুত নিয়ম আর বিশ্বাসের গভীর সংযোগকে। আজ বিকেল ৩টা ২৬ মিনিটে তাই একটু সময় করে আকাশের সূর্যের দিকে তাকালে আপনিও ছুঁয়ে যেতে পারেন ইতিহাসের সেই প্রাচীন ও নিখুঁত পদ্ধতিকে, যা সরাসরি যুক্ত করে দেয় মক্কার পবিত্র ভূমির সাথে।
তথ্যসূত্র: ডেইলি পাকিস্তান
জা. অর্থনীতি/ উমার