বিজ্ঞানের জয়জয়কার আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা AI এর যুগে যখন মানুষ মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপনের স্বপ্ন দেখছে, তখনো কি আমরা ক্যালেন্ডারের পাতায় আটকে থাকা কিছু দিন বা মাসকে ‘অশুভ’ ভেবে আঁতকে উঠছি ? প্রযুক্তির আধুনিকায়নের সাথে সাথে আমাদের মনস্তত্ত্ব কি আদেও কুসংস্কারমুক্ত হতে পেরেছে? বিশেষ করে হিজরি ক্যালেন্ডারের ‘সফর’ মাস এলেই সমাজে যে অলীক ভীতি ও অমঙ্গলের গুঞ্জন শুরু হয়, তা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় এক বৈপরীত্য।
সমাজ ও সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে তাকালে এখনো দেখা যায়, সফর মাস শুরু হলেই অনেকে বিয়ে-শাদি, নতুন ব্যবসা বা শুভ কাজ থেকে বিরত থাকছেন। অনেকে আবার বিপদ কাটাতে বিশেষ তাবিজ-কবজ বা ‘আখেরি চাহার সোম্বা’র মতো আচার-অনুষ্ঠানে ঝুঁকে পড়ছেন। অথচ আধুনিক মনন ও ইসলামের মূল চেতনা—উভয় দিক থেকেই এই ভীতি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
ইসলামের অকাট্য দলিল ও ইতিহাসের আলোকেই এই কুসংস্কারগুলোর অসারতা প্রমাণ করা সম্ভব:
কোরআনের স্পষ্ট ঘোষণা, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো বিপদ আসে না। (সুরা তাগাবুন, ১১)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বুখারি শরিফের ৫৭০৭ নম্বর হাদিসে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কোনো মাসই নিজস্বভাবে অশুভ নয়।
সফর মাসে বিয়ে নিষিদ্ধ—এই ধারণা ইসলামের উদার নীতির পরিপন্থী। ইসলামের ইতিহাসে খোদ দ্বিতীয় হিজরির এই সফর মাসেই হযরত আলি (রা.) ও হযরত ফাতিমা (রা.)-এর ঐতিহাসিক বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল।
দঅশুভের তকমা পাওয়া এই মাসেই রাসুলুল্লাহ (স.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের প্রস্তুতি নেন। এ মাসেই ঘটেছে খায়বর বিজয়ের মতো ঘটনা এবং খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.)-এর মতো বীরেরা ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
আজকের দিনে আমাদের প্রয়োজন অলীক ভয় দূরে ঠেলে যুক্তিবাদী ও আধ্যাত্মিকভাবে বলীয়ান হওয়া। সফর মাসকে ভয়ের কারণ না বানিয়ে একে ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। এ মাসে আইয়ামে বিজের (১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) রোজা, সোম ও বৃহস্পতিবারের নফল রোজা, দান-সদকা এবং নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা সম্ভব।
একটি আধুনিক ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে কুসংস্কারের কোনো স্থান নেই। সময় বা মাস কখনো মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করে না, বরং মানুষের কর্ম এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসই আসল। তাই সফর মাসকে অমঙ্গলের প্রতীক না ভেবে, একে আল্লাহর রহমত ও কল্যাণের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
জা.অর্থনীতি/ উমার