স্বামীকে ভাই ও স্ত্রীকে বোন ডাকা যাবে কি?
ছবি: সংগৃহীত

বিয়ে ইসলামে কেবল সামাজিক সম্পর্ক নয়, বরং ভালোবাসা, প্রশান্তি ও পারস্পরিক দয়ার এক পবিত্র বন্ধন। আল্লাহ তায়ালা সুরা রূমের ২১ নং আয়াতে বলেছেন যে, তিনি স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসা ও রহমত স্থাপন করেছেন। সুরা নিসার ১৯ নং আয়াতেও স্বামীদের সদাচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আমাদের সমাজে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে নানাভাবে ডাকেন নাম ধরে, ওগো, সন্তানের নামের সঙ্গে মিলিয়ে, আবার কখনো মজা করে ‘ভাই’ বা ‘বোন’ বলেও। প্রশ্ন হলো, এমন সম্বোধন শরিয়তে বৈধ কি না, আর এতে তালাক হয়ে যায় কি না।

আবু দাউদের  ২২১০  একটি বর্ণনায় আছে, এক ব্যক্তি স্ত্রীকে বোন সম্বোধন করলে রাসুল (সা.) তা অপছন্দ করেন ও নিষেধ করেন। তবে শায়খ আলবানি এই বর্ণনার সনদকে দুর্বল বলেছেন, তাই এর ভিত্তিতে কঠোর হারাম ফতোয়া দেওয়া ঠিক নয়।

হানাফি ফিকহের গ্রন্থ রদ্দুল মুহতারে (৩/৪৭০) স্ত্রীকে মা, মেয়ে, বোন বলে ডাকাকে মাকরূহ বলা হয়েছে, তবে এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জিহার সাব্যস্ত হয় না। অর্থাৎ এমন সম্বোধন অনুচিত ও মাকরূহ হলেও এতে তালাক বা বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষতি হয় না।

তাই ভাই বা বোন ডাকলে তালাক হয় না, কারণ এটি স্পষ্ট তালাকের শব্দ নয়। তবে যদি স্ত্রীকে সত্যিকারের মাহরাম সম্পর্কের সঙ্গে তুলনা করার উদ্দেশ্যে বলা হয়, তাহলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে এবং তখন নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

নবিজি (সা.) স্ত্রীদের সঙ্গে স্নেহপূর্ণ সম্বোধন করতেন, যেমন আয়েশা (রা.)-কে আয়িশ বলে ডাকতেন (বুখারি, ৩৭৬৮)। এতে বোঝা যায়, আদরের ডাকনাম বা অমুকের বাবা-মা বলা নিষেধ নয়।

সংক্ষেপে, স্বামী-স্ত্রীর উচিত নাম ধরে, বৈধ আদরের ডাকনামে বা পারিবারিক প্রচলিত সম্বোধনে একে অপরকে ডাকা। ভাই, বোন, মা, বাবা-এর মতো সম্বোধন এড়িয়ে চলাই উত্তম, যা প্রকৃত সম্পর্কের সঙ্গে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।