জমি নিয়ে বিরোধে ৫ জনকে কুপিয়ে আহত
ছবিতে লুটপাটের শিকার আনোয়ারের বাড়ি

শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীসহ ৫ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পর প্রতিপক্ষের বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

বাড়ির মালিকের দাবি, লুটপাটে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এলাকাবাসী লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার খরচ মেটাতে স্থানীয়ভাবে ওই জিনিসপত্র বিক্রি করা হচ্ছে।

উপজেলার যোগানিয়া ইউনিয়নের তালুকপাড়া গ্রামে গত বৃহস্পতিবার সকালে মারধর ও কোপানোর ঘটনা ঘটে। এর দুইদিন পর শনিবার সকালে প্রতিপক্ষের বাড়িতে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লায় সাংবাদিকের ওপর হামলাকারী যুবক গ্রেপ্তার

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তালুকপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন (৬০) ও সোহেল (৩৫) চাচাতো-জেঠাতো ভাই। প্রায় দেড় বছর ধরে তাদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিসও হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে সোহেলের ছোট ভাই জিয়ার মিয়া (৩০) বিরোধপূর্ণ জমিতে আইল বাঁধতে গেলে আনোয়ারের লোকজন বাঁধা দেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে জিয়াকে মারধর করা হয়। পরে জিয়ার বাড়ি থেকে সোহেলের স্ত্রী, ছেলে ও বোনসহ তার পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে ৫ জন আহত হন।

আহতরা হলেন- জিয়ার মিয়া, রেজাউল (২৫), অন্তর (১৯), টুকুনি (৪০) ও আয়েশা (৩০)। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রংপুরে ৪ খুন: উঠে এল নতুন তথ্য

এদিকে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় আনোয়ারের পক্ষের লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এ সুযোগে শনিবার সকালে স্থানীয় লোকজন আনোয়ারের সেমিপাকা বাড়িতে গিয়ে মালামাল নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন আনোয়ার।

আনোয়ারের দাবি, বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ মণ ধান, ৪০ মণ চাল, চারটি সেচমোটর, দুই ভরি স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, একটি ট্রাক্টর ও ধান মাড়াইয়ের মেশিন নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের ভাষ্য, আহতরা দরিদ্র হওয়ায় তাদের চিকিৎসার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে আনোয়ারের বাড়ির কিছু মালামাল বিক্রি করে সেই অর্থ চিকিৎসার কাজে ব্যয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকাবাসী একটি কমিটি করে চাঁদা তুলে আহতদের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করছেন।

—জা. অর্থনীতি/এনজে